নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে রাজপথে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

by hsnalmahmud@gmail.com

দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রধান বিরোধী দলকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে রাজধানী তেল আবিবের রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এটিই হয়তো দেশটিতে ‘প্রকৃত পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’। তারা নেতানিয়াহুকে ইসরাইলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাকে ‘বড় চালবাজ’ বলে আখ্যা দেন।

বিজ্ঞাপন
banner

ইসরাইলের প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট এর আগে দেশটির আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তবে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর নতুন করে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে তার পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব হতে পারে।

আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ শনিবার (৩১ অক্টোবর) রামাল্লা থেকে জানান, মানুষ সত্যিই চায় নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনের একটি পথ বের হোক। তাদের বিশ্বাস, গাদি আইজেনকোট ও ইহুদি-ইসরাইলি অন্য নেতাদের উচিত সাধারণ মানুষের এই জোরালো দাবি মেনে নেওয়া।

এদিকে এই বিক্ষোভের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর সমর্থকরাও পাল্টা কর্মসূচি পালন করেন। তাদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘তথাকথিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ইসরাইলে কোনো সরকার গঠন করা যাবে না।’

মঙ্গলবারের নির্বাচনে ১২০ আসনের ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে এককভাবে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

তবে নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল। তারা একজোট হয়ে মোট ১৯টি আসনে জয় পেয়েছে। এই দলগুলোর সমর্থন পেলে আইজেনকোটের জোট ৬৭টি আসনের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেতে পারে।

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে রাআম এবং আরব নেতৃত্বাধীন তিন দলের জোট জয়েন্ট লিস্টের পক্ষে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ভোট পড়েছে। ২০২২ সালের শেষ নির্বাচনের তুলনায় এই ভোট প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি।

এদিকে নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি দলগুলোর বিরুদ্ধে কাতার থেকে অর্থ নিয়ে নির্বাচন ‘চুরি’ করার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে কাতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সাংবাদিক নূর ওদেহ বলেন, ইসরাইলের চরম ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের এই ঐতিহাসিক ভোটকে ‘নির্বাচনি সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিচ্ছে। এমনকি তারা একে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার সঙ্গে তুলনা করছে। ওই হামলায় হামাস যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরাইলে আক্রমণ চালিয়ে ১ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা এবং শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।

নূর ওদেহ আরও বলেন, ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের ভোট ও কণ্ঠস্বর এখন আক্রমণের নিশানা হয়ে উঠেছে। কারণ, আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি এখন তাদের হাতেই রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি, রয়টার্স

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222