ফাতওয়া একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল আমানত। এক্ষেত্রে পূর্বসূরি আকাবিরের পথ ও দেওবন্দী মানহাজ অনুসরণ করেই সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করতে হবে—এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আলেমরা।
গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ১৪৪৭ হি./২৬ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে বেফাক অফিস সংলগ্ন জামি‘আ ইসলামিয়া দারুল উলূম ঢাকা-এর উদ্যোগে ইফতা বিভাগের ছাত্রদের পাগড়ি প্রদান উপলক্ষে এক দস্তারবন্দী মাহফিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ইফতা বিভাগ সমাপনী প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্বরূপ পাগড়ি পরিয়ে দেন দেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন ও মুনাযিরে জামান, জামি‘আ ইসলামিয়া মারকাযুল উলূম খুলনার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম আল্লামা মুফতী গোলাম রহমান (দা.বা.)। মাহফিলে রাজধানী ঢাকার বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
দারুল উলূম ঢাকার মুহতামিম মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া (দা.বা.)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মাওলানা আহসান হাবীব, মাওলানা আতাউর রহমান আতিকী, মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতী মাসুম বিল্লাহ, মুফতী জাফর আহমাদ, মুফতী আবদুল্লাহ ইদ্রীস, মুফতী তাজুল ইসলাম ও মুফতী ফারহান নাজিমসহ দেশবরেণ্য বহু আলেমে দ্বীন।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে কওমী মাদরাসার গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং দেওবন্দিয়াত মাসলাকের মৌলিক নীতিমালার প্রতি দৃঢ় থাকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁরা বলেন, ইফতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে উম্মাহর আমানত বহন করবেন। তাই ইলমের পাশাপাশি তাকওয়া, ইখলাস ও আমলকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলা তাদের জন্য অপরিহার্য।
আলেমরা আরও বলেন, ফাতওয়া প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মত বা আবেগ নয়; বরং আকাবিরে দেওবন্দের অনুসৃত মানহাজ ও উসূলের আলোকে গভীর দায়িত্ববোধের সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে, যাতে সমাজ ও রাষ্ট্র সঠিক দিকনির্দেশনা পায়।
অনুষ্ঠান শেষে ইফতা বিভাগ সমাপনী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জামি‘আর মুহতামিম উস্তাযে মুহতারাম মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া (দা.বা.)-এর হাতে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
হাআমা/
