ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক চলমান সংঘাতের প্রভাবে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে অন্তত ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। নিহতদের মধ্যে লেবাননে ৫ জন, সৌদি আরবে ৩ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২ জন এবং ইরাক ও বাহরাইনে ১ জন করে বাংলাদেশি রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।
সংসদে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরির পর ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮টি শিশুসহ মোট ১৮৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বদা তৎপর রয়েছে।”
নিহতদের সৎকার ও স্বজনদের সহায়তার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে প্রাণ হারানো ১২ জনের মধ্যে একজনের মরদেহ স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশেই দাফন করা হয়েছে। অন্যদিকে ইতোমধ্যেই ৯ জন প্রবাসীর লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশ দাফন ও তাৎক্ষণিক খরচের জন্য বিমানবন্দর থেকে প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা এবং মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদান হিসেবে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
প্রবাসীদের সার্বিক সেবা ও সুনির্দিষ্ট সুবিধা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরো জানান, অসুস্থ ও মৃত কর্মী পরিবহনের সুবিধার্থে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি আধুনিক ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স এবং চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে একটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করা হয়েছে।
একইসঙ্গে শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের লাগেজ পরিবহনের ভোগান্তি কমাতে ২০০টি নতুন ট্রলি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম প্রবাসীদের জন্য ১০টি হুইলচেয়ার সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ লাউঞ্জ, ৩০ শতাংশ ছাড়ে মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হেলথ বা মেডিকেল কর্নার স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
টিএইচএ/
