বরিশালের পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে আহত ১২

by Abid vs36

৩৬নিউজ ডেস্ক: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় চুরির মামলার আসামিকে থানা গারদ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া ও তাঁর মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে থানার ডিউটি অফিসারসহ ৬ জন পুলিশ সদস্য এবং অপর পক্ষের অন্তত ৬ জনসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানা কম্পাউন্ডের ভেতরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে ও একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে চুরির একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানায় নিয়ে আসার পর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রিয়াজ ফকির গারদের লোহার গেটের সঙ্গে নিজের মাথায় নিজে সজোরে আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়েন। বুধবার রাত ১১টায় পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গভীর রাতে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দীর্ঘ সময় পার হলেও রিয়াজ ফকিরের জ্ঞান না ফেরায় এলাকায় রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার শতাধিক মানুষ সংগঠিত হয়ে এক মিছিল নিয়ে থানা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে। পুলিশ মিছিলকারীদের বাধা দিতে গেলে বাকবিতণ্ডা থেকে একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়।

হামলাকারীরা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে বেধড়ক মারধর করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশও লাঠিচার্জ শুরু করলে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত আহত হন।

সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিম, সিপাহী লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। গুরুতর আহত এএসআই হালিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮) ও মমতাজ বেগম (৪৭)-সহ অন্তত ৬ জন আহত হন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও গ্রেপ্তারের আতঙ্কে অনেকে আত্মগোপনে থেকে গোপন চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম দাবি করেন, “আমার ছেলেকে সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুলিশ নির্মমভাবে নির্যাতন ও মারধর করেছে। সে এখন বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।”

ঘটনাসম্পর্কে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, “চুরির মামলায় গ্রেপ্তার রিয়াজ ফকির থানা গারদে নিজেই নিজের মাথায় সজোরে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা ও অভিনয় করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তার আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোক মিছিল সহকারে থানায় অতর্কিত হামলা চালায় এবং ডিউটি অফিসারসহ পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। সরকারি কাজে বাধা ও থানায় তাণ্ডব চালানো দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222