এক সময় সুমধুর কণ্ঠে মসজিদে আজান দিয়ে মুসল্লিদের নামাজের দিকে আহ্বান জানাতেন তিনি। অথচ নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজ সেই কণ্ঠটি নীরব হতে চলেছে। লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার মুয়াজ্জিন ও দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম। প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় দিনে দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটছে।
সিরাজুল ইসলামের পৈতৃক বাড়ি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় হলেও তিনি দীর্ঘ দিন ধরে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের শাকপালদিয়া গ্রামে মাতুল সূত্রে পাওয়া ছোট্ট এক টুকরো জায়গায় নির্মিত একটি ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করে আসছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র ১৭ বছর বয়সে বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়েন সিরাজুল। এরপর অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি সংসার শুরু করেন। স্ত্রী আয়েশা বেগম ও তিন বছরের শিশুসন্তান আসিফকে নিয়ে ছকে বাধা সাধারণ জীবনই কাটাচ্ছিলেন তিনি।
কিন্তু ২০২০ সালে চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে লিভার সিরোসিস শনাক্ত করেন। এরপরও যতদিন শারীরিক সক্ষমতা ছিল, দিনমজুরি করেই চিকিৎসার খরচ চালিয়েছেন। তবে ২০২৫ সাল থেকে রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করে। বর্তমানে তাঁর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেছে এবং স্বাভাবিক হাঁটাচলা করা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সিরাজুল ইসলামকে সুস্থ করে তুলতে হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা ও লিভার প্রতিস্থাপন প্রয়োজন, যার জন্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা দরকার। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা সহায়-সম্বলহীন দিনমজুর পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিরাজুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন, “স্বামীর চিকিৎসার খরচ দূরে থাক, এখন সংসারে খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে কষ্ট হয় ৩ বছরের অবুঝ ছেলে আসিফকে দেখলে। সে বোঝে না তার বাবা কত বড় ব্যাধিতে আক্রান্ত, কেবলই চায় বাবা তাকে আগের মতো কোলে নিক।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিরাজুল অত্যন্ত সৎ, নম্র ও পরিশ্রমী মানুষ। চরম বিপদেও তিনি কখনো কারও কাছে হাত পাতেননি। কিন্তু আজ তাঁর জীবন বাঁচাতে মানবিক সহমর্মিতা জরুরি।
তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, “সিরাজুল সত্যিই অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছি। তবে একার পক্ষে তাঁর চিকিৎসার পুরো ব্যয় বহন সম্ভব নয়। আমি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার জোর আহ্বান জানাচ্ছি।”
অসহায় সিরাজুল ইসলাম আবারও সুস্থ হয়ে সুমধুর কণ্ঠে মসজিদে আজান দিতে চান। নিজের কোলছুটো নিষ্পাপ শিশুসন্তান যেন এতিম না হয়ে যায়, সেজন্য সমাজের হৃদয়বান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে চিকিৎসার অর্থ জোটাতে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন তিনি।
টিএইচএ/
