৩৬নিউজ ডেস্ক: টানা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের রাধাপুর এলাকায় খোয়াই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে পানির প্রবল স্রোতের মুখে বাঁধের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে লোকালয়ে দ্রুত পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। মুহূর্তে মধ্যে বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁধ ভাঙার পরপরই রাধাপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় হু হু করে পানি ঢুকতে থাকে। পানির তীব্র তোড়ে বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু পরিবার জীবন ও গৃহপালিত পশু বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটেছেন। হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া এই বন্যায় শত শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে কৃষকদের চোখের সামনেই তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা, শাকসবজির খেতসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল, যার ফলে অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬১ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি আরও জানান, খোয়াই নদীর চুনারুঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার এবং শহরসংলগ্ন মাছুলিয়া পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কুশিয়ারা নদীর একাধিক পয়েন্টেও পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে খোয়াই নদীর বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তেঘড়িয়া ইউনিয়নের ভাদৈই সেতু সংলগ্ন এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিরক্ষা বাঁধ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সম্ভাব্য ধস ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দারা দিন-রাত স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্থায়ী কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাধাপুর এলাকার এই বাঁধটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো সংস্কার বা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সময় থাকতে পদক্ষেপ নিলে এই অপূরণীয় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন তারা। স্থানীয় জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং দুর্গত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দ্রুত সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
টিএইচএ/
