রাবি সংঘর্ষ: নিজেদের ‘ভুক্তভোগী’ দাবি রাকসুর, তদন্তে প্রশাসন

by Fatih Work

মো. রেজওয়ান (রাবি প্রতিনিধি): রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। এক পক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নিজেদের ‘ভুক্তভোগী’ দাবি করে পুরো ঘটনাকে ‘প্রতিরোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্য পক্ষে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মিলে ওই তিন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। স্পর্শকাতর এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, প্রক্টর দপ্তরে আনাস নামের এক শিক্ষার্থীকে আটকের দাবি জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন তাকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে তারা রাকসু ভবনে গেলে কয়েকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তার ভাষ্যমতে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করা। সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, আনাস ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে অভিযুক্ত। একই সঙ্গে এই হামলায় অংশ নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া পুরো ঘটনাকে ‘হামলা’ না বলে ‘প্রতিরোধ’ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সমালোচনা করে রাকসু ভিপি অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনা একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। তাদের দাবি, প্রক্টর দপ্তরে আনাসকে ডেকে এনে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় দেন রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও এজিএস সালমান সাব্বির। পরবর্তীতে আনাস ও তার সঙ্গীরা রাকসু ভবনে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া তিন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। এমনকি তাদের চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও সেখান থেকে নামিয়ে পুনরায় মারধর করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর পুলিশ জানায়, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মঙ্গলবার সকালে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222