ক্রীড়া ডেস্ক :: রেফারির অবস্থান নিয়ে সংশয়ে ছিলেন মুহাম্মদ সালাহ। আটলান্টায় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের ১৩ মিনিটের ঝড়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে মিশরের বিদায়টা ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ম্যাচ শেষে মাঠের রেফারিং নিয়ে মিশরীয় শিবিরে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বললেও, অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ বেছে নিলেন এক সংযত কিন্তু ইঙ্গিতপূর্ণ পথ। তাঁর সতীর্থ মোস্তফা জিকো যখন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতিত্ব এবং ম্যাচ ‘পাতানো’র অভিযোগ তুলছেন, তখন সালাহ রেফারি নিয়ে সরাসরি মুখ না খুলেও বুঝিয়ে দিলেন, যা ঘটার তা সবার সামনেই ঘটেছে।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিভারপুল মহাতারকা ম্যাচটিকে ভাগ্যের লিখন হিসেবে মেনে নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান।
রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সালাহ তাঁর ক্ষোভ চেপে রেখে বলেন, “প্রথমত, এটা আল্লাহর ইচ্ছা ছিল। ম্যাচের ভাগ্য এবং ফলাফল এমনই নির্ধারিত ছিল। আমরা প্রথমার্ধে চমৎকার খেলেছি এবং দ্বিতীয়ার্ধের একটা বড় অংশজুড়েও ভালো খেলেছি। আমরা কিছু ছোট ছোট ভুল করেছি, আর রেফারিংয়ের কথা যদি বলেন, আমি এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করাই পছন্দ করব। মাঠে কী ঘটেছে তা সবাই দেখেছে। আমার নতুন করে কিছু যোগ করার নেই।”
সরাসরি রেফারিকে আক্রমণ না করলেও সালাহ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া দুটি বিতর্কিত মুহূর্তের কথা উল্লেখ করতে ভুল করেননি। তিনি বলেন, “আমাদের একটি গোল বাতিল করা হয়েছিল এবং আমাদের পক্ষে একটি স্পষ্ট পেনাল্টিও দেওয়া হয়নি। ঠিক তারপরেই তারা (আর্জেন্টিনা) কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে গোলটি করে।”
অধিনায়ক সালাহ সংযম দেখালেও তাঁর সতীর্থ মোস্তফা জিকো রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, ম্যাচটি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পক্ষে নেওয়ার জন্য আগে থেকেই ‘ছক কষা’ বা ‘পাতানো’ ছিল। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে কোচ হোসাম হাসান অবশ্য ফুটবলারদের সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং তাদের এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
হৃদয়বিদারক এই পরাজয়ের পরেও ২০২৬ আসরটি মিশরের ফুটবল ইতিহাসে তাদের সেরা বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইন হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আর এই সফলতার নেপথ্যে কারিগর ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী সালাহ। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ১টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ২টি গোল। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দেওয়ার সামর্থ্য যে ফারাওদের ছিল, তা মনে করিয়ে দিয়ে সালাহ শেষ করেন:
“আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হয়েছিলাম এবং জানতাম এটি অত্যন্ত কঠিন একটি ম্যাচ হবে। আমরা এই প্রতিপক্ষের জন্য খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এবং ম্যাচের শুরু থেকেই তা স্পষ্ট ছিল। তবে দিনশেষে, আল্লাহ আমাদের ভাগ্যে যা লিখে রেখেছিলেন, তা-ই হয়েছে। এই আসর থেকে আমরা যা অর্জন করেছি, তা নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাব এবং ইনশাআল্লাহ, আমাদের ভবিষ্যৎ আরও সুন্দর হবে।”
