চিফ রিপোর্টার:: সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে—এমন খবর সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভ, কড়া প্রতিবাদ ও চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে। ভিন্ন মতাদর্শের বিতর্কিত কোনো ব্যক্তিকে এই স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব না দিয়ে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য আলেম বা আলেমবান্ধব কাউকে নিয়োগের কঠোর দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ইসলামী চিন্তাবিদ ও সংক্ষুব্ধ ওলামায়ে কেরাম।
রবিবার (১৬ আগস্ট) কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাপরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় কোনো সাধারণ প্রশাসনিক দপ্তর নয়। সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান, আলেম-উলামা ও পীর-মাশায়েখের অনুভূতির বিষয়টি মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের সিংহভাগ মুসলমান হানাফি মাজহাবের অনুসারী। ফলে ধর্মীয় আচার-আচরণে বিচ্ছিন্ন বা চরম বিতর্কিত কোনো মতাদর্শের ব্যক্তিকে এই দায়িত্বে বসানো হলে সরকারের সঙ্গে সর্বস্তরের আলেম সমাজ ও সাধারণ জনগণের মারাত্মক দূরত্ব ও সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হবে।
একই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর হুঙ্কার দিয়েছেন মাওলানা আব্দুল হামিদ মধুপুরীর ছেলে মাওলানা আবু আম্মার আব্দুল্লাহ। তিনি সাফ জানান, শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের ৯৯ শতাংশ হানাফি মাজহাব অনুসারী ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর উল্টো মতাদর্শের কাউকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সহ্য করা হবে না। প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে। একই সঙ্গে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজে কোরআন কামরুল ইসলাম রতনকে সহযোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প প্রস্তাবও দেন তিনি।
শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের আল্টিমেটাম ও কড়া যৌথ বিবৃতি
এদিকে শামীম কায়সার লিংকনকে প্রতিমন্ত্রী করার গুঞ্জনে সরাসরি আল্টিমেটাম দিয়ে যৌথ কড়া বিবৃতি জারি করেছেন দেশের অর্ধশতাধিক শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে আলেমসমাজ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শত শত বছর ধরে এ দেশের সুন্নি মুসলমানরা হানাফী ফিকহ ও তাসাওউফের অনুসরণ করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সালাফি ও লা-মাজহাবি গোষ্ঠী দেশের শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশ বিনষ্ট করতে মসজিদে মসজিদে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। এখন যদি সেই মতাদর্শের কাউকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রধান করা হয়, তবে তা হবে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সমাজের সঙ্গে চরম তামাশা।”
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সরাসরি জোর দাবি জানিয়ে বলা হয়, ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ বা বিএনপির ভেতরে থাকা সুন্নতি আকীদার কোনো সংসদ সদস্যকে এই দায়িত্ব দেওয়া হোক। কিন্তু প্রকাশ্য হানাফী মাজহাববিরোধী কাউকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বানানো হলে তা দেশের আলেম সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না এবং এর পরিণতিতে সরকার তীব্র গণঅসন্তোষের মুখে পড়তে পারে।
যৌথ এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক কাসেমী (বলিয়ারপুর মাদরাসা, ঢাকা), মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী (নরসিংদী), মাওলানা আব্দুর রহীম মাদানী (টঙ্গী, গাজীপুর), মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী (বি,বাড়িয়া), মুফতী সালমান ফারসী (ঢাকা), মাওলানা ইসমাঈল বুখারী কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ), মুফতী রিজওয়ান রফিকী (যশোর), মুফতী শফী কাসেমী (বগুড়া), মুফতী আরিফ জাব্বার কাসেমী (গাজীপুর), মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক (ঢাকা), মুফতী বেলাল বিন আলী (ঢাকা), মুফতী আব্দুল্লাহ সালেহী (ঢাকা), মাওলানা মাহমুদুল হাসান (যশোরী), মুফতি আবু আম্মার আব্দুল্লাহ (মধুপুর), মুফতি ওবায়দুল্লাহ কাসেমী (প্রিন্সিপাল, মধুপুর হালিমিয়া (মুন্সীগঞ্জ), মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন ইমরান সিত্তে, মুফতি ইউসুফ জামিল (কিশোরগঞ্জ), মুফতি মুহাম্মদ হাসনিম (গওহরডাঙ্গা), মাওলানা দিলাওয়ার হুসাইন মাইজী (কেরানীগঞ্জ, ঢাকা), মুফতি শোয়াইব আহমদ কাসেমী (মিরপুর আরজাবাদ), মুফতি হোসাইন বিন ওয়াক্কাস কাসেমী (যশোর), মাওলানা ওবায়দুর রহমান হুজাইফী (ঢাকা), মুফতি আমিনুল ইসলাম কাসেমী (সাভার), মুফতি ফেরদৌস মাহমুদ (জামালপুর), মুফতি কামরুজ্জামান কাসেমী (যশোর), মুফতি সোহাইল আহমদ (নীলফামারী), মুফতি আব্দুল হালিম বিন হারুন (নরসিংদী), মুফতি মাহমুদুল হাসান জিলানী (কুমিল্লা), মুফতি সোলায়মান মাদানী (কুমিল্লা), শাইখুল হাদিস মুফতি শফিকুর রহমান (ময়মনসিংহ), মুফতি শফিকুল ইসলাম কাসেমী (ঢাকা), মাওলানা আল আমিন (ঢাকা), মাওলানা আব্দুল্লাহ আনসারী (ঢাকা), মাওলানা মাহমুদুল হাসান নোমান (ঢাকা), মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আজাদী (ঢাকা), মুফতী ইউসুফ আজাদী (ঢাকা), মুফতী ওবায়দুল্লাহ শাকির (ফরিদপুর), মুফতী হাফিজুর রহমান (মেহেরপুরী), মুফতী ইনামুল হক আইয়্যুবী (বি,বাড়িয়া), মাওলানা মাসউদুর রহমান আইয়ুবী (মানিকগঞ্জ), মাওলানা গাজী সিদ্দিকুর রহমান (সাভার, ঢাকা), মুফতি আবু সাঈদ ইসহাকী (মাদারীপুর), মুফতি ইসহাক কামাল (নরসিংদী), মুফতি তাফহীমুল হক (হবিগঞ্জী), মুফতি নোমান আল হাবীব (মাদারীপুর), মুফতি জাকারিয়া সিদ্দিকী (ঢাকা)।
