সোলার ছাড়া চার্জ দিলে অটোরিকশার নিবন্ধন নয়, থাকছে জরিমানাও

by hsnalmahmud@gmail.com

নিজস্ব প্রতিবেদক:: ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা বা অটোরিকশা সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে চার্জ দিলে জরিমানার বিধান করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া চার্জ করলে এসব অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না। নিবন্ধনের পর এমনটি করলে নবায়নও করা হবে না।

প্রণয়নাধীন বিধিমালায় এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিধান রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বিজ্ঞাপন
banner

সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার আওতায় নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শর্ত থাকবে, এসব যানবাহন চার্জ দিতে হবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, সৌর বিদ্যুতের বাহিরে রিচার্জ করলে এই ব্যাটারিচালিত বা ই-রিকশাগুলোকে আমরা রেজিস্ট্রেশন দেব না এবং নবায়ন করব না।

সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করলে জরিমানার বিধানও রাখা হচ্ছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, তারা সৌর বিদ্যুতের বাহিরে অন্য বিদ্যুৎ চার্জে রিচার্জ করতে গেলে তাদের যে জরিমানা হবে, সেটাও আইনে আমাদের থাকবে।

বিআরটিএ নয়, নিবন্ধন দেবে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা

কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দেবে না। সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা নিবন্ধন দেবে। জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আইন পাস হয়েছে এবং সেই আইনের আলোকে বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে।

বিধিমালায় নিবন্ধন ফি, নবায়ন ফি এবং অন্যান্য শর্ত নির্ধারণ করা হবে। নিবন্ধনের জন্য বুয়েট অথবা জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখা থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।

ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়ার পর ট্রাফিক পুলিশের প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে সেটি সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভায় জমা দিতে হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকায় ই-রিকশা চলবে আট জোনে

ঢাকা শহরের ই-রিকশাগুলোকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথাও জানান মীর শাহে আলম। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে চারটি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে চারটি জোন থাকবে।

প্রতিটি জোনের ই-রিকশায় আলাদা রং থাকবে। এক জোনের ই-রিকশা যাতে অন্য জোনে যেতে না পারে, সে জন্য জিও ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

কোন সড়কে ই-রিকশা চলতে পারবে এবং কোন সড়কে চলতে পারবে না, সেটিও বিধিমালায় নির্ধারণ করা হবে। জিও ফেন্সিং ও আইন অমান্যের ক্ষেত্রে জরিমানার বিষয়টি ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

তদারকির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজ তো এটি। পুলিশের সাথেই যৌথভাবে এটা করছি আমরা, পুলিশই কমিটিতে আছে। জিও ফেন্সিং এটাও ট্রাফিক পুলিশই করবে এবং তারাই মনিটরিং করবে।

নিবন্ধনের সময় দেওয়া হবে কিউআর কোড

নিবন্ধনের সময় প্রতিটি ই-রিকশায় কিউআর কোড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। বিধিমালা প্রণয়নের প্রাথমিক বৈঠক ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ট্রাফিক পুলিশ এবং দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

কবে নাগাদ এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে জানতে চাইলে মীর শাহে আলম বলেন, বিধিমালাটি প্রধানমন্ত্রী এবং আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আমরা ভেটিং করে নিয়ে বিধিমালাতে দেওয়ার সাথে সাথে এটা কার্যকারিতা শুরু হবে ইনশাল্লাহ।

তিনি জানান, এ কার্যক্রম শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশে একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে। ১৩টি সিটি কর্পোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা এবং দেশের সব উপজেলায় ই-রিকশাকে নিবন্ধন, আইন ও নবায়নের আওতায় আনা হবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222