ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট সরকার গঠনের পর ছয় মাস পূর্ণ হওয়ায় মন্ত্রিসভার কার্যক্রমের মূল্যায়ন ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আসায় তার হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসতেছে।
সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণের আগেই মন্ত্রিসভায় এই রদবদল আসতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার বড় ধরনের কোনো রদবদল না হলেও সীমিত পরিসরে পরিবর্তন এনে কিছু নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করা হতে পারে। বর্তমান মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়নের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমীকরণ চলছে। গুঞ্জন রয়েছে, এই মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব পেতে পারেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসতে পারেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।
দলীয় সূত্র বলছে, সরকার ও দলীয় সমীকরণ মেলানোর পাশাপাশি জোটের শরিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই নামগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।
পূর্ণ মন্ত্রিত্বের দৌড়ে কেবল নতুন মুখই নয়, বর্তমান প্রতিমন্ত্রীদের মধ্য থেকেও বেশ কয়েকজনকে পদোন্নতি দিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বিশেষ করে গত ছয় মাসে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, এমন প্রতিমন্ত্রীদের পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এদিকে এ বিষয়ে সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও বিএনপির হাইকমান্ডের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও মন্ত্রিসভার এই সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে কেউই সরাসরি মুখ খুলতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির শপথ ও সরকারের সামগ্রিক পারফরম্যান্স পর্যালোচনার পর মন্ত্রিসভায় একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা আসতে পারে।
