নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সম্প্রতি আনা সংশোধনীর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটি দাবি করেছে, নবপ্রণীত ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬’ ইসলামী শরীয়াহ ও পবিত্র কুরআনের অকাট্য বিধানের পরিপন্থী। বিতর্কিত এ আইন অবিলম্বে বাতিল এবং আলেম-ওলামাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অধিকতর পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় (আইএবি মিলনায়তন)-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে আগামী কাল ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দেশের সব বিভাগীয় শহরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ আইনের মাধ্যমে শরীয়াহসম্মত ‘হেবা’ ব্যবস্থার বাইরে জীবনস্বত্ব রেখে দান করার নতুন সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের মতে, এই পরিবর্তন আদতে হেবা নয় বরং ওয়ারিশদের পক্ষে অসিয়ত করার সামিল, যা হাদীস শরীফ অনুযায়ী স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
সংগঠনটি উল্লেখ করে, হেবা সূত্রে সম্পদ পেয়ে সন্তানদের মাধ্যমে বয়োবৃদ্ধ পিতা-মাতা গৃহহীন বা উচ্ছেদ হওয়ার মানবিক সমস্যাটি বাস্তব। তবে শরীয়াহ এড়ানোর প্রবণতা থেকে তৈরি হওয়া এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে পুনরায় শরীয়াহ লঙ্ঘন করা গ্রহণযোগ্য নয়। পিতা-মাতার উচ্ছেদ রোধে আইনি প্রযোগ জোরদার, ধর্মীয় শিক্ষা ও পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেয় দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এছাড়া কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন না করার অঙ্গীকার সত্ত্বেও এই সংশোধনী পাস করা দুঃখজনক। আইন প্রণয়নে দেশীয় আলেম ও শরীয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত না নিয়ে খ্রিষ্টান পন্ডিতদের তথ্যসূত্র ব্যবহারে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব, আইনশৃঙ্খলা ও বিদ্যুৎ সংকটের মতো জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো এড়িয়ে সরকার শরীয়াহবিরোধী আইন প্রণয়নে নেমেছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিতর্কিত আইনটি পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
