সরকার বিদেশি রপ্তানিমুখী বাণিজ্যের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ছে: আল্লামা মামুনুল হক

by hsnalmahmud@gmail.com

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, “সরকার বিদেশি রপ্তানিমুখী বাণিজ্যের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ছে। সরকার দেশটাকে দলীয়করণ করেছে। সব জায়গায় সিন্ডিকেট। তেলের দাম বাড়াবে, তাই তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে মানুষ গিয়ে তেল পায় না। তারপর হঠাৎ যখন তেলের দাম বেড়ে যায়, তখন সব তেল ঠিকমতো পাওয়া যায়। গ্যাস পাওয়া যায় না। যেই গ্যাসের দাম বেড়ে গেল, এখন গ্যাস পাওয়া যায়। তার মানে হলো, গ্যাসের দাম, তেলের দাম বাড়ানোর জন্য সিন্ডিকেট করে বাংলাদেশের কোটি মানুষকে জিম্মি করে আজকে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার নীতি অবলম্বন করছে।”

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নড়াইলের লোহাগড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস লোহাগড়া শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
banner

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত। এ খাতের ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পণ্য রপ্তানি করতে হয়। কিন্তু গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে গার্মেন্টস উৎপাদনের ব্যয় ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে গার্মেন্টস খাতে উৎপাদন ব্যয় প্রায় তিন গুণ বেড়ে যাচ্ছে। অথচ শ্রমিকদের মজুরি যথাযথভাবে পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশ তাদের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের ভর্তুকি দিয়ে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে রাখছে। বিপরীতে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট ও উচ্চ ব্যয়ের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

দেশের অর্থনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গ্যাস নেই, তেল নেই, বিদ্যুৎ নেই, সার নেই।” অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য প্রতিদিন বাড়ছে। জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে শিল্প ও ব্যবসা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।

জুলাই সনদ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য শুধু একটি দলের পরিবর্তে আরেকটি দলের ক্ষমতায় আসা ছিল না। আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন ছিল ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রমুক্ত, বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ৩৩টি রাজনৈতিক দল নয় মাসে ৮৩টি অধিবেশনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে। সেখানে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য ও বিকেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে।

গণভোটের রায় প্রসঙ্গে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, একই দিনে একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে দুই ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়ে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, নির্বাচনের পর সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। জনগণের দেওয়া রায়কে উপেক্ষা করা হলে জনগণই তার জবাব দেবে।

জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “দেড় হাজারের মতো মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।” তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল বৈষম্য ও স্বৈরতন্ত্রমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হোসাইন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ কাসেমী, মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি আব্দুর রহমান, মুফতি ফারুক হাসান নদভী, মুফতি শুয়াইব ইব্রাহীম, মাওলানা বেলায়েত হোসাইন, মাওলানা মনিরুজ্জামান, মাওলানা মাসুম বিল্লাহসহ নড়াইল ও লোহাগড়া শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222