সরকার জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১৮টি প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার (২০ জুন) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, গত ১৬ জুন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে কমিশনের আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া।
সভায় জানানো হয়, বিভিন্ন সংস্কার কমিশন সরকারের কাছে যে প্রস্তাবগুলো জমা দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রশাসনিকভাবে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য অংশগুলো আলাদাভাবে বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১৮টি প্রস্তাব চিহ্নিত করা হয়েছে আশু বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে।
প্রস্তাবিত আটটি সহজ বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, সেগুলো হলো:
- মহাসড়কের পেট্রোল পাম্পে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপন
- মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটকে আরও কার্যকর ও হালনাগাদ করা
- কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি পুনর্গঠন
- কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালনা
- সরকারি দপ্তরে গণশুনানি চালু ও নিয়মিত করা
- তথ্য অধিকার আইন ও অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট পর্যালোচনা ও সংশোধন
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে ‘পরিসংখ্যান কমিশন’ এ রূপান্তর
- ডিজিটাল রূপান্তর ও ই-গভর্নেন্স জোরদারকরণ
সিদ্ধান্তসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপন: ২০২৫ সালের ২০ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সব পেট্রোল পাম্পে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট নিশ্চিত করতে সময়সীমা নির্ধারণ।
- ওয়েবসাইট হালনাগাদ: ICT বিভাগ এক সপ্তাহের মধ্যে সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে নাগরিক সেবা ও মতামতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
- ম্যানেজিং কমিটি গঠন: সংশ্লিষ্ট নীতিমালা দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন।
- কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনা: স্বাস্থ্য বিভাগ এক সপ্তাহের মধ্যে এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে।
গণশুনানি চালু: সেবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বৈঠক করে নিয়মিত গণশুনানি নিশ্চিত করা হবে।
আইন পর্যালোচনা: তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ এর সময়াবদ্ধ পর্যালোচনা ও সংশোধন।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর পুনর্গঠন: বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় চলমান সংস্কারের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পুনর্গঠন।
ডিজিটাল রূপান্তর: সব সরকারি সেবাকে নাগরিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে ই-গভর্ন্যান্স জোরদারে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ।
প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজস্ব বাস্তবায়ন টিম গঠন করবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রগতি জানাবে। তদারকির জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ইউনিট এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিয়মিত পর্যালোচনায় থাকবে।
সভায় জানানো হয়, শুধুমাত্র এই সভাতেই নয়, ভবিষ্যতেও অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ধারাবাহিকভাবে এমন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সরকার ইতোমধ্যেই ৫৪টি মন্ত্রণালয়ে এক হাজার ৬১টি সংস্কার ও উন্নয়নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
হাআমা/
