মো. তানবিরুল হক আবিদ :: বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে কাবুলের নাম আসে প্রায়ই। কখনো রাজনৈতিক পালাবদল, নিরাপত্তা ইস্যু, আবার কখনো আন্তর্জাতিক কূটনীতির খবরে। ফলে বহু মানুষের কাছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পরিচয় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে সংঘাত আর নিরাপত্তাহীনতার গল্পে। কিন্তু সংবাদ শিরোনামের বাইরে যে কাবুল রয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক শহর।
পাহাড়ের কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন নগরীর অলিগলি, বাগান, মসজিদ, জাদুঘর এবং হ্রদজুড়ে ছড়িয়ে আছে শতাব্দীর ইতিহাস। একদিকে মধ্য এশিয়ার প্রাচীন সভ্যতা, অন্যদিকে প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লিলাভূমি, দুইয়ের মিলনে কাবুল হয়ে উঠেছে ভ্রমণ পিপাসুদের এক অন্যতম ভ্রমণগন্তব্য।

কাবুল ভ্রমণ শুরু হতে পারে বাবর গার্ডেন থেকে। মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবরের স্মৃতিবিজড়িত এই উদ্যান আজও শহরের অন্যতম শান্ত ও মনোরম স্থান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সোপানাকৃতির বাগান, সারিসারি প্রাচীন গাছের মাঝে দাঁড়ালে মনে হয় ইতিহাস যেন এখনো নিঃশব্দে শ্বাস নিচ্ছে।
এই শহরের অতীত আরও কাছ থেকে জানতে হলে যেতে হবে জাতীয় জাদুঘরে। আফগানিস্তানের হাজার বছরের ইতিহাস সেখানে সাজানো রয়েছে নিদর্শন ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে। বৌদ্ধ যুগ থেকে শুরু করে ইসলামি সভ্যতার দীর্ঘ যাত্রার গল্প সংরক্ষিত রয়েছে প্রদর্শনীতে।
কাবুলের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা শাহ-দো-শমশিরা মসজিদও পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। প্রচলিত আফগান স্থাপত্যের বাইরে ইউরোপীয় নির্মাণশৈলী শহরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরে।

শাহ-দো-শমশিরা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত।
শহুরে কোলাহল ছেড়ে কিছুটা প্রকৃতির কাছে যেতে চাইলে গন্তব্য হতে পারে পঘমান গার্ডেন। কাবুল থেকে অল্প দূরত্বের এই পাহাড়ি অঞ্চল বহুদিন ধরেই স্থানীয় মানুষের অবকাশযাপনের প্রিয় স্থান। সবুজ পাহাড়, নির্মল বাতাস এবং বিস্তৃত উদ্যান পঘমানকে দিয়েছে এক আলাদা আবেদন।
কার্গা লেক কাবুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক। পাহাড়বেষ্টিত এই জলাধারের শান্ত জলরাশি দিনের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে। বিকেলের সোনালি আলো যখন লেকের জলে প্রতিফলিত হয়, তখন চারপাশের দৃশ্য যেন কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মতো মনে হয়।
তবে কাবুলকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে আবিষ্কার করা যায় শহরের আশপাশের পাহাড়চূড়া থেকে। সন্ধ্যার আগে কোনো একটি উঁচু স্থানে দাঁড়ালে দেখা যায় ধীরে ধীরে আলোয় রঙ বদলাচ্ছে শহর। অস্তগামী সূর্যের লাল আভা পাহাড়ের গায়ে ছড়িয়ে পড়ে, আর নিচে বিস্তৃত কাবুল নগরী যেন দিনের শেষ আলোকে বিদায় জানায়।

যারা নতুন কোনো গন্তব্যের খোঁজে আছেন, তাদের জন্য কাবুল হতে পারে এক বিস্ময়কর আবিষ্কার।
টিএইচএ/
