৩৬ নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসায় এক প্রবীণ মায়ের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়কে আবারও সামনে এনেছে। গত রবিবার (০১ জুন) রাতে মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামের ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি যখন আমাদের সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে, তখন ইসলামে পিতা-মাতার অধিকার ও সন্তানের আবশ্যিক কর্তব্যের বিষয়টি নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। ইসলামে পিতা-মাতার খেদমত অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মেরাজ রজনীর চৌদ্দটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে দ্বিতীয়টিই হলো পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহর হকের পরপরই বান্দার হকের মধ্যে পিতা-মাতার হককে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া হয়েছে। সুরা নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে শরিক করো না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ এছাড়া সুরা আহকাফ এবং সুরা লুকমানেও পিতা-মাতার প্রতি সদয় আচরণ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কঠোর নির্দেশ রয়েছে।
হাদিস শরিফেও মায়ের অধিকারকে বাবার চেয়ে তিনগুণ বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘পিতা-মাতা হলো তোমার জান্নাত এবং জাহান্নাম।’ অর্থাৎ, সন্তান ইচ্ছা করলে তাদের খেদমত ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করতে পারে, আবার তাদের অবাধ্য হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করতে পারে।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, সন্তানের ওপর পিতা-মাতার প্রতি মোট ১৪টি সুনির্দিষ্ট হক বা দায়িত্ব রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি তাঁদের জীবদ্দশায় এবং বাকি ৭টি তাঁদের ইন্তেকালের পর পালনীয়। জীবিত অবস্থার কর্তব্যগুলো হলো সম্মান ও শ্রদ্ধা করা, ভালোবাসা, আদেশ মান্য করা, সেবাযত্ন করা, সুখ-শান্তির ব্যবস্থা করা, প্রয়োজন পূরণ করা এবং দূরে থাকলে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ করা।
অন্যদিকে, ইন্তেকালের পরের ৭টি দায়িত্ব হলো তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনামূলক দোয়া করা, ইবাদতের মাধ্যমে সওয়াব রেসানি করা, তাঁদের বন্ধুবান্ধব ও নিকট স্বজনদের সম্মান ও সাহায্য করা, ঋণ বা আমানত থাকলে তা পরিশোধ করা, বৈধ অসিয়ত পূর্ণ করা এবং নিয়মিত কবর জিয়ারত করা। মিরপুরের এই ঘটনাটি যেন জীবিত অবস্থার সেই ধর্মীয় ও মানবিক হকের চরম লঙ্ঘনের এক করুণ দৃষ্টান্ত।
টিএইচএ/
