চিফ রিপোর্টার:: পাকিস্তানে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে নারী পাচারের অভিযোগ সামনে আসার পর এবার বাংলাদেশেও একই ধরনের প্রতারণার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সচেতন মহল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানে সক্রিয় থাকা একটি চক্র এখন বাংলাদেশের দরিদ্র ও অসহায় মেয়েদের টার্গেট করতে পারে।
বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, কয়েক বছর আগে পাকিস্তানে অনলাইন পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তরুণীদের বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হতো। পরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাদের চীনে নিয়ে যাওয়া হতো।
তথ্যসূত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর একটি তদন্ত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ২০১৮-১৯ সালে অন্তত ৬২৯ জন পাকিস্তানি নারী ও তরুণীকে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে চীনে নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় চীনা ও স্থানীয় দালাল চক্র দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের টার্গেট করে প্রতারণার মাধ্যমে পাচার করত।
যেসব নারী পরে পাকিস্তানে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন যে চীনে নেওয়ার পর প্রথমদিকে ভালো আচরণ করা হলেও পরে তারা নির্যাতন, শোষণ ও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রশাসন চীনা নাগরিক ও স্থানীয় কয়েকজন দালালকে আটক করেছিল।
বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, পাকিস্তানে এ ধরনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর চক্রটি সেখানে তৎপরতা কমিয়ে অন্য দেশগুলোর দিকে নজর দিতে পারে। বাংলাদেশেও চীনা নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়েকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও মুসলিম নারীদের অমুসলিম পুরুষকে বিয়ে করার বিষয়টি বৈধ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি চীনে নারী-পুরুষের অনুপাতের ভারসাম্যহীনতার বিষয়টিও আলোচনায় আনা হয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, মানবপাচারকারীরা সাধারণত নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখে। তাই বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে বিয়ে বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
বক্তব্যে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গণমাধ্যমের প্রতি এ বিষয়ে আরও নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশে বর্তমানে এ ধরনের সংঘবদ্ধ নারী পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাআমা/
