জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষে সদস্য মনোনয়নে প্রোপরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তারা মনে করছে, এই উদ্যোগ বহুদলীয় গণতন্ত্র, প্রতিনিধিত্বের ন্যায্যতা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
বৃহস্পতিবার সকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংলাপের ২৩তম দিনে কমিশন জানায়, দীর্ঘ আলোচনার পর ভিন্নমত ও ঐকমত্যহীনতা থাকা সত্ত্বেও উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়াটি কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তারা পিআর পদ্ধতির এই প্রস্তাব উত্থাপন করে।
কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের নিজস্ব আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না। অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য সব বিল নিম্ন ও উচ্চ—উভয় কক্ষে উপস্থাপন করতে হবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল সর্বোচ্চ এক মাস আটকে রাখতে পারবে। এক মাস পেরুলে সেটি অনুমোদিত হিসেবে বিবেচিত হবে।
পীর সাহেব চরমোনাইয়ের প্রতিক্রিয়া: ‘এটি জুলাই চেতনার রক্ষাকবচ’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই, এক বিবৃতিতে বলেন, ‘উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে সদস্য মনোনয়নের সিদ্ধান্ত জাতির প্রত্যাশার আংশিক বাস্তবায়ন। এই প্রস্তাবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বহু রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরেই উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতির দাবি জানিয়ে আসছিল। কারণ এই পদ্ধতি ছাড়া ভোটের ন্যায্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবের কারণে বিগত পাঁচ দশকে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হতো যদি সংস্কারের বড় অংশে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছানো না যেত। উচ্চকক্ষে পিআর না থাকলে, যেসব সংস্কারে এখন ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর টিকে থাকা নিয়েও সন্দেহ থাকতো।’
পীর সাহেব বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
এনসিপির দাবি: ‘বাস্তবায়নের পদ্ধতি এখনো অস্পষ্ট’
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হলেও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। আমরা চাই, এটি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হোক এবং এই বিষয়টিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হোক।’
তিনি জানান, উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিদের পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচিত করার প্রস্তাবটি এনসিপির দীর্ঘদিনের দাবি। তবে তারা সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষে টু-থার্ডস মেজরিটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যেভাবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সংবিধান পরিবর্তন হয়, তা বন্ধ হওয়া দরকার। উচ্চকক্ষে পিআর থাকলে সেই অপচেষ্টা রোধ হবে।’
এছাড়াও তিনি বলেন, ‘এক শতাংশ ভোটপ্রাপ্ত দলগুলো যেন উচ্চকক্ষে একজন করে প্রতিনিধি দিতে পারে, এতে বহুদলীয় অংশগ্রহণ বাড়বে এবং আইন পাসের আগেই সেগুলোর জনপরিসরে বিশ্লেষণ সম্ভব হবে।’
আখতার হোসেনের মতে, উচ্চকক্ষে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধির অংশগ্রহণ থাকলে বাংলাদেশের রাজনীতি সংঘাত নয়, নীতি ও সংলাপনির্ভর পথে পরিচালিত হবে।
হাআমা/
