৩৬ নিউজ ডেস্ক:: আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩–০ গোলের দাপুটে জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকে ভর করে পাওয়া এই জয়ের আনন্দে বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা।
খেলা উপলক্ষে ভোর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এবং হাজী মুহম্মদ মহসীন হল মাঠে জড়ো হন শত শত শিক্ষার্থী ও ফুটবলপ্রেমী। বড় পর্দায় একসঙ্গে ম্যাচ উপভোগ করেন তাঁরা। মেসির প্রতিটি আক্রমণ, প্রতিটি গোলেই করতালি আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। চতুর্থ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের হেড আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান ঠেকিয়ে দেন। দুই মিনিট পর মেসির একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। অপরদিকে অষ্টম মিনিটে আলজেরিয়ার শাইবির একটি গোলও অফসাইডের কারণে গণ্য হয়নি।
তবে ১৭ মিনিটে আর কোনো ভুল করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মাঝমাঠ থেকে রদ্রিগো ডি পলের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন মেসি। তাঁর গোলেই এগিয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই গোলের পর উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাস কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আর্জেন্টিনার পতাকা হাতে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। প্রথমার্ধ শেষে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায়ও স্পর্শ করেন একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
খেলা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। টিএসসি ও মহসীন হল মাঠ থেকে বের হয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা আনন্দ মিছিল করেন। নীল-সাদা জার্সি গায়ে এবং জাতীয় পতাকা হাতে তাঁরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। ঢোল, করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
মহসীন হল মাঠে খেলা দেখতে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্বকাপের আবহে একসঙ্গে বসে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা সব সময়ই বিশেষ। আর মেসির হ্যাটট্রিক সেই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দাপুটে জয় পাওয়ায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রত্যাশা, শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে দলটি এবারও শক্ত অবস্থান নিয়ে এগিয়ে যাবে।
এনআর/
