ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। যৌতুক না আনার কারণে এক নারীকে নির্যাতনের পর জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পুলিশ ঘটনায় তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) ডেইলি জং সূত্রে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত নারীর নাম নিকি। শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই তাকে এবং তার বড় বোন কঞ্চনকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে আসছিল। পরিবারটি ৩৬ লাখ রুপি দাবি করেছিল।
নিহতের বড় বোন কঞ্চন, যিনি একই বাড়িতে বিবাহিত হয়ে এসেছেন, তিনি জানান—নিকির বিয়ে হয়েছিল ২০১৬ সালে, আর ছয় মাস পার না হতেই নির্যাতন শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে নিকিকে নির্মমভাবে মারধর করার পর তার ছোট সন্তানের সামনেই গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
কঞ্চন আরও জানান, ‘বছরের পর বছর ধরে আমাদের ওপর নির্যাতন চলছিল। বারবার বলা হতো, বিয়েতে এই জিনিস পাওয়া যায়নি, ওই জিনিস পাওয়া যায়নি। ৩৬ লাখ রুপি দিতে হবে। সেদিন আমাকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা মারধর করা হয়। এমনকি বলা হয়, তুমি মারা গেলে ভালো হয়, আমরা আবার বিয়ে করব। এরপর আমার চোখের সামনেই বোনকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হলো। আমি তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও অজ্ঞান হয়ে পড়ি।’
ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নিকিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কেন্দ্রীয় হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিকির স্বামীসহ শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।
সূত্র: ডেইলি জং
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
