হাসান আল মাহমুদ >>
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার বিকেলে গণঅধিকার পরিষদ ও জাপার নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এসময় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি হন। এ ঘটনার পর দেশের প্রায় সব প্রধান রাজনৈতিক দল ও ইসলামপন্থী সংগঠন নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বিএনপি
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নুরুল হক নুরের ওপর হামলা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চরম লঙ্ঘন।”
তিনি নুরের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ
হেফাজতে মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আওয়ামী দোসর জাপার সন্ত্রাসী, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙ্খল সদস্য ফ্যাসিস্ট আমলের মতো হামলা চালিয়েছে। দোষীদের বিচার করতে হবে।’
তারা আরো বলেন, ‘ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তার কিছুই এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সবচে জরুরি পুলিশবাহিনীর কোনো দৃশ্যমান সংস্কারও হয়নি। এখনো আগের মতো ক্ষমতাসীনদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যা ইউনূস সরকারের জন্য চরম লজ্জার বলে আমরা মনে করি।’
হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, ‘চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রশংসিত। কিন্তু গতকাল পুলিশের সাথে মিলে একজন সুপরিচিত ছাত্রনেতার ওপর হামলার কারণে সেনাবাহিনীর ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা একদমই অপ্রত্যাশিত। সেনাবাহিনীর ভেতরে থেকে যারা আধিপত্যবাদের ইন্ধনে প্রতিষ্ঠানটিকে ফ্যাসিস্ট আমলের মতো বিতর্কিত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই সেনাবাহিনী জনগণের গর্ব ও আস্থার জায়গাটি পুনরুদ্ধার করুক। পুলিশের পর্যায়ে নামিয়ে এনে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও বিতর্কিত হতে দেয়া কোনোভাবেই উচিত হবে না। ’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ নেতাদের ওপর যে হামলা করা হয়েছে তা পরিকল্পিত হামলা। ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে টার্গেট করে এই হামলা করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসর অফিসাররা অতি উৎসাহী হয়ে হামলা চালিয়ে শুধু তাদের নিরপেক্ষতা হারায়নি, সরকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে তদন্তপূর্বক হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।’
জুলাই বিপ্লবের পর এ ধরনের হামলার ঘটনা প্রত্যাশিত ছিল না বলে মন্তব্য করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘গণহত্যাকারী ও তাদের দোসররা একই অপরাধে অপরাধী। গণহত্যাকারী ফ্যাসিবাদীরা যেখানে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে তাদের দোসররা কেন রেহায় পাবে। অনেক রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টদের দেশ থেকে তাড়িয়েছে, সেই স্বৈরাচারদের পুনর্বাসন জনগণ মেনে নেবে না।’
ফ্যাসিবাদীদের যে পরিণতি হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন হলে সরকারকে একই পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেন জামায়াত নেতা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রধান চাওয়া হলো, ফ্যাসিবাদের সম্ভাব্য যে কোন ধরণের উত্থান রুখে দেয়া। বিগত আমলে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ও ফ্যাসিবাদের পক্ষে জাতীয় পার্টির ন্যাক্কারজনক ভূমিকা সকলের জানা। বলতে গেলে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আইনী পাটাতন নির্মাণে প্রধান ভূমিকা ছিলো তাদের। ৫ আগষ্টের পরে জাতীয় পার্টির বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার ছিলো। সেটা করা হয় নাই। এখন জাতীয় পার্টির ইস্যুতে নুরের মতো একজন ফ্যাসিবাদ বিরোধী নেতাকে রাস্তায় লাঠিপেটা করা স্পষ্টত জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
দলীয় মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ প্রশ্ন তুলেন, ‘দেশ কে চালাচ্ছে—দেশের কেউ নাকি বিদেশি কেউ? এ হামলায় সেই সন্দেহই জোরালো হয়েছে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ে এনসিপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ করেন তারা।
দলীয় নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘শুরুটা হয়েছিল রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা দিয়ে, যে পরিকল্পনা আমি ১১ মার্চ প্রকাশ করে দেই। সেই পুনর্বাসন ভেস্তে গেলেও ওরা থামেনি। সেই একই গ্রুপ এবার আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের জন্য বেছে নিয়েছে জাতীয় পার্টিকে।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ব্যাক করানোর এই খেলায় প্রথম রক্ত দিলেন আমাদের নুর ভাই। এখন যদি আমরা নুরুল হক নুরের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ না করতে পারি, জাতীয় পার্টিকে দিয়ে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর এই চেষ্টা প্রতিহত না করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশটাই আবার নুর ভাইয়ের মত রক্তাক্ত হয়ে যাবে।’
অন্য দুই নেতা সারজিস আলম ও হান্নান মাসউদও ফেসবুকে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাপা নিষিদ্ধের দাবি জানান।
ইসলামী ঐক্যজোট
চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল কাদের ও মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, ‘নুরুল হক নুর ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসেনানী। তার মতো একজন রাজনীতিবিদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। আমরা এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি। একই সঙ্গে ভিপি নূরসহ আহতদের দ্রুত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
তারা আরও বলেন, ইসলামী ঐক্যজোট একটি টেকসই ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চায়। ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসরদের বিচারে গতিশীলতা দেখতে চায়। সর্বোপরি রাজনৈতিক বৈচিত্রের মাঝেও ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে জাতিকে বিচ্ছিন্ন নয়, ঐক্যবদ্ধ দেখতে চায়।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
দলটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, ‘এ ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য। সরকারকে সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেছেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধেও সরকারকে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
দেশে এই মুহূর্তে কোন প্রকার অরাজক পরিস্থিতি কাম্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ অশান্তি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে নতুন নতুন ইস্যু সৃষ্টির জন্য নয়।একটার পর একটা ইস্যু সামনে নিয়ে আসার নেপথ্যে কারা পরিকল্পনা করছেন তাও দেশবাসীর নিকট স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
আমীর মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনরোষ ভয়াবহ রূপ নেবে, জনগণ রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে। আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি করছি— হামলাকারী জাপা সন্ত্রাসী, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকধারী ব্যক্তিদের অবিলম্বে জবাবদিহিতা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী দোষরদের রাজনীতি থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আর কোনো অন্যায়-জুলুম বরদাশত করবে না। আহত ভিপি নুরুল হক নুরসহ সকল আহত নেতাকর্মীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র ও দমননীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
তাঁরা আরও বলেন, দেশবাসী গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে— জাতীয় পার্টির ঘাড়ে ভর করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আবারও দেশে ফিরে আসার ষড়যন্ত্র করছে। এ নীলনকশায় ভেতরে ভেতরে কারো কারো ইন্ধন ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা রয়েছে বলেও জনমনে দৃঢ় ধারণা তৈরি হয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিতে চাই— এমন দুঃসাহসী চক্রান্তের পরিণতি ভয়াবহ হবে এবং এর দায় জনবিক্ষোভের মুখে কারও পক্ষে এড়ানো সম্ভব হবে না।
নেজামে ইসলাম পার্টি
আমীর সরওয়ার কামাল আজিজী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশে একটি দলের প্রধানের ওপর বর্বরোচিত এ হামলা দেশ ও জাতির জন্য অশনিসংকেত। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় জাতি গভীরভাবে উৎকন্ঠিত। দেশের শান্তিকামী জনগণের হৃদয়ে আজ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার লক্ষ্যে ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও স্বাধীনতাকামী ও দেশপ্রেমিক জনতার কণ্ঠরোধের এমন পৈশাচিক প্রয়াস আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে।’
তারা বলেন, ‘অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক মর্মান্তিক এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই সাথে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের অপসারণ এবং ফ্যাসিবাদের প্রধান সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী দোসরদের রাজনীতি অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় জনরোষ ভয়াবহ রূপ নেবে, জনগণ রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে।’
এবি পার্টি
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলের প্রারাম্ভে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, নুরের স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। ফ্যসিবাদের বিচার হলে কেন সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা হবে না? ২০১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচন থেকে জাতিকে বঞ্চিত করার জন্য আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি সমানভাবে দায়ী। এ জাতিকে দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা বারবার সতর্ক করেছি, জাতীয় পার্টির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে বলেছি কিন্তু সরকার শোনেনি। এখন থেকে রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, গণঅধিকারের অফিস পর্যন্ত ভাঙচুর হয়েছে, জাতীয় রাজনৈতিক নেতাদের নৃশংসভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। কোনো উস্কানি ছাড়াই মিছিলে হামলা হয়েছে। টালবাহানা না করে সঠিক তদন্ত করতে হবে। আমাদের দাবি—১. নুরের সর্বোত্তম চিকিৎসা রাষ্ট্রের খরচে নিশ্চিত করতে হবে। ২. হামলায় জড়িতদের নাম প্রকাশ করে ৬ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে।
মজিবুর রহমান মঞ্জু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা যদি হাসিনার মতো ডিল করতে চান, তবে পরিণতিও হবে ইয়াহিয়ার মতো। তিনি সেনাবাহিনীসহ সকল বাহিনীকে দেশপ্রেমিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
সভাপতি রিফাত রশিদের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ হামলা অভ্যুত্থানোত্তর সরকারের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। জাপা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর। পুলিশ সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এ ঘটনা আমাদের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ভয়ংকর দমন-পীড়নের দিনগুলোর স্মৃতিও মনে করিয়ে দিচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মনে করে, এ ঘটনার দায় হাজারও শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের নানা ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশেরই অংশ এবং একই সঙ্গে এটি জুলাই ছাত্র-জনতার শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিবৃতিতে আরও বলেছে, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, বিভিন্ন মহল নানা মোড়কে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, যার অন্যতম অংশ জাতীয় পার্টি। এমনকি মিলিটারি এস্টাবলিশমেন্টও এই ফ্যাসিস্ট সহযোগীকে নানাভাবে সাপোর্ট দিয়ে আওয়ামী পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মনে করে, আজ অন্তর্বর্তী সরকার, প্রশাসন ও সেনাবাহিনী কর্তৃক জাতীয় পার্টির অফিস পাহারা দিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা সেই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রেরই অংশ। মনে রাখতে হবে, এই জাতীয় পার্টি গত দেড় দশকে বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার সরকারকে বৈধতা দিয়েছে এবং একই সঙ্গে গুম, খুন ও নানা অন্যায়ের সহযোগী হয়েছে। অর্থাৎ তারা আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের অন্যতম দোসর।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, ‘তাই অভ্যুত্থানোত্তর সময়ে অন্যতম জন-আকাঙ্ক্ষা ছিল পুলিশ সংস্কার। কিন্তু পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠিত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশি সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি আমরা দেখতে পাইনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অন্তর্বর্তী সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, অতিদ্রুত পুলিশ সংস্কারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শিগগিরই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।’
ডাকসু প্রার্থীরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএস পদপ্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘এ হামলা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। সেনাবাহিনী ও পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
তারা আরও বলেন, ‘নুর জাতীয় নেতা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের যোদ্ধা। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হামলা প্রমাণ করে সংস্কারের অনেক পথ বাকি।’
তারা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
হাআমা/
