পশ্চিমবঙ্গে জয়ের পথে বিজেপি, কেমন থাকবেন মুসলিমরা?

by Abid

ভারতে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৫ কোটি ৪০ লক্ষেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়ের দিকে এগোচ্ছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ৬৯টি আসনের বিপরীতে বিজেপি ১১১টি আসনে এগিয়ে থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতি ও ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে জাতীয় নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর বিজেপি এই স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে জয়ের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক শক্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ জয় বিজেপির জন্য কৌশলগত সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে, প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার লড়াই চালাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
banner

আসামে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার লক্ষে অভিবাসন ইস্যুকে প্রধান হাতিয়ার করেছেন। কেরালায় বামপন্থী ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের পিনারাই বিজয়ন কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধিতার মুখে তৃতীয়বার জয়ের আশা করছেন। তামিলনাড়ুতে আঞ্চলিক রাজনীতির চিরাচরিত ধারায় অভিনেতা জোসেফ বিজয়ের নতুন দল এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পুদুচেরিতেও এন. রঙ্গস্বামীর নেতৃত্বে এনডিএ জোট তাদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। ভারতের এই রাজ্য বিধানসভাগুলোর নির্বাচনের ফলাফল সরাসরি উচ্চকক্ষ বা রাজ্যসভার গঠনকেও প্রভাবিত করবে, যেখানে বিজেপি বর্তমানে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।

তবে এই নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একটি বড় অংশই মুসলিম ভোটার। রাজ্য সরকার এটিকে মুসলিমদের ভোটাধিকার বঞ্চিত করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করলেও নির্বাচন কমিশন একে প্রশাসনিক ত্রুটি সংশোধন এবং বিজেপি একে অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া বলে দাবি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর শাসনভারই নির্ধারণ করবে না, বরং ভারতের ভবিষ্যৎ সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক মেরুকরণের গতিপথও স্পষ্ট করবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222