ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর বোরো ফসলি জমি। অকাল বন্যায় মেদির হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় কষ্টের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। অনেকের আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় হাহাকার ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কৃষকরা কোথাও বুক সমান আবার কোথাও হাঁটু পানিতে নেমে তড়িঘড়ি করে স্বপ্নের ফসল কাটার চেষ্টা করছেন। তবে টানা বৃষ্টির কারণে রোদের দেখা না মেলায় কেটে রাখা ধান পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক মো. ফুল মিয়া মেদির হাওরে সাড়ে ১৪ কানি জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ দিয়ে পানির নিচ থেকে কিছু ধান কেটে আনলেও রোদের অভাবে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধার-দেনা করে করা চাষাবাদের এমন করুণ পরিণতিতে তিনি এখন চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন। একই অবস্থার কথা জানান ভবানী রানী ও রজব আলীর মতো প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের মতে, একদিকে ধান কাটার বাড়তি মজুরি, অন্যদিকে বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য না থাকায় তারা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মরণ কামড় দিচ্ছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে মোট ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ইতিমধ্যে ৩০৫ হেক্টর ধানি জমি পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যদিও উপজেলায় মোট আবাদের ৬৫ শতাংশ ধান আগেই কাটা শেষ হয়েছিল, তবে গত দুদিনের দুর্যোগে প্রায় এক হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বৃষ্টির কারণে হাওরে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গত দুদিনে তলিয়ে থাকা জমির ১০ থেকে ১২ শতাংশ ধান নতুন করে কাটা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং সরকারি সহায়তা এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের তালিকাভুক্ত করা হবে। তবে প্রকৃতির এমন বিরূপ আচরণে সোনালী ফসল হারিয়ে হাওরপাড়ের কৃষকদের এখন নুন আনতে পান্তা ফুরাবার দশা।
টিএইচএ/
