আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>
বাংলাদেশের কওমি মাদরাসার পাঠ্যক্রম ‘দরসে নেজামী’ অনুযায়ী পড়াশোনা করা আলেমদের মসজিদ থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন জামায়াতি বক্তা হিসেবে পরিচিত মাওলানা তারেক মনোয়ার।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘মসজিদের সাথে চার-পাঁচজন দরসে নেজামীর আলেম থাকেন। এজন্য প্রত্যেকটা মসজিদে আমাদের নক করা উচিত। মসজিদ কমিটিতে আমাদের ঢুকা উচিত।’
৫ই আগস্টের পর বিভিন্ন মহলের পরিবর্তন প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেখেন সব পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ইমামদের কোনো পরিবর্তন হয় নাই। যে ইমামগুলা আওয়ামীলীগের সময়ে ছিল, তারা আওয়ামী লীগের ইমাম। এগুলোর ভিতরে অনেকগুলো দুষ্টু, এগুলো চৌদ্দ রকমের চেহারা নিয়ে সেখানে টিকে আছে। এজন্য ওই সময় যারা বড় বড় মসজিদের খতিব আছিল, তাদেরেকে ঘাড় ধরে বের করে দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। কারণ, এরা বহুরূপী। যখন যেটা, তখন সেটা। সেজন্য আমরা যেন আমাদের আদর্শের উপর থাকি।’
তারেক মনোয়ারের এই বক্তব্যের পর ধর্মীয় অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় বইছে।
বিশিষ্ট আলেম ও আলোচক মুফতি লুৎফর রহমান ফরায়েজী বলেছেন, “স্বৈরশাসনের সময় থেকে যারা দরসে নেজামী আলেম হিসেবে ইমামতি করেছেন তাদেরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া তারেক মনোয়ারের চরম ধৃষ্টতা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, ‘এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের জন্য তাকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীকেও স্পষ্ট করতে হবে তারা কি দলীয়ভাবেও এ ধরনের মানসিকতা লালন করে কি না।’
রামপুরায় এক মসজিদের খতিব ছিলেন মুফতি মোহাম্মদ শাইখুল ইসলাম। কয়েক মাস আগে তাকে সেখান থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, রামপুরায় নিজের সাথে এই ঘটনা ঘটছে তাদের এই থানার আমির জড়িত,পাশাপাশি মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ সাহেবের চাকরি ও সে-ই খাইছে।
মুহা: নুরুল হাকিম বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দরসে নিজামীর ইমাম সাহেবদেরকে মসজিদ থেকে ঘাড় ধরে বাহির করে দেওয়ার মতো জঘন্য কথা বলতে পারে, তারা ক্ষমতায় এলে কওমি দেওবন্দী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করতে একটুও দ্বিধা বোধ করবে না।’
এছাড়া, সামাজিক মাধ্যমে মুজ্জাম্মিল হক নামে একজন লিখেন, জামায়াতের আলেম তারেক মনোয়ার সাহেবের একটা আলোচনা ভাইরাল হয়েছে। যেখানে সে বিভিন্ন মসজিদ দখলের ব্যাপারে জামাতকে মোটিভেইট করছে। অজুহাত হল, মসজিদগুলোর দায়িত্বে নাকি অধিকাংশ কওমি ইমামই আওয়ামী হুজুর ছিল। অথচ জামাতের প্রায় সব বক্তা আর আলেম আওয়ামী আমলে চেতনা বিক্রি করে টিকে থেকেছে। এই তারেক মনোয়ারও মুজিব ও হাসিনা বন্দনা গেয়েছে বয়ানের স্টেজে বসে। তাদের সবচেয়ে পপুলার ওয়ায়েজ মিজানুর রহমান আজহারিও মুজিবের গুণগ্রাহী ছিল। যদিও এতেও তার রক্ষা হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় এদের ইমাম আওয়ামী হিসেবে ঘাপটি মেরে থেকেছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের সারা দেশে যে নেটওয়ার্ক, সেখানে জামাতের লোক কম ছিল না। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি, তারা আওয়ামী সেজে কিভাবে ঘাপটি মেরে থেকেছে। পুরো আলিয়া মাদ্রাসা সেটাপেও এই হালত ছিল। এরকম বললে আরো বলা যায়। দিনশেষে আওয়ামী আমলে অনেকেই লীগের দ্বারস্থ থেকেছে। ফলে এখানে একদম টপ চিহ্নিত লীগের দোসর ছাড়া কাউকে হেনস্থা করা উচিত হবে না।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘৫ ই আগস্টের পর জামাতের মসজিদ ও প্রতিষ্ঠান দখলবাজির যেই ব্যাপক সংবাদ কানে আসছে বিভিন্ন মারফতে, এটাও এক ধরণের ফ্যাসিবাদি চরিত্রকে নির্দেশ করে। জামাতের উচিত এসব বন্ধ করা। এগুলো তাদের রাজনীতিকে ধ্বংস করবে। তাদের উচিত, এরকম প্রকাশ্য দখলবাজি বক্তব্যের পর তারেক মনোয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।’
হাআমা/
