পার্বত্য চট্টগ্রামের ষড়যন্ত্র প্রতিহতে যে আহ্বান জানাল ইসলামি নেতৃবৃন্দ

by hsnalmahmud@gmail.com

হাসান আল মাহমুদ >>

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক অস্থিরতা, সেনাবাহিনীর ওপর সশস্ত্র হামলা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ইসলামি নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, এ ধরনের তৎপরতা শুধু আইন-শৃঙ্খলার জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্যও বড় হুমকি। ভারতীয় মদদপুষ্ট ইউপিডিএফসহ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘দেশদ্রোহী ও সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করে নির্মূল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন
banner

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক নিরাপত্তা পদক্ষেপ আরো বাড়াতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আমরা খাগড়াছড়ির গুইমারায় সেনাবাহিনীর ওপর বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফ-এর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ধর্ষকদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতে হবে, কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে বিচার দাবির আড়ালে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি বাঙালিদের স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত সেনা-সদস্যদের ওপর একের পর এক আক্রমণ হয়েছে। আমরা দেখেছি, সেনাবাহিনী যথেষ্ট ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও আধিপত্যবাদী ইন্ডিয়ার ভাড়াটে সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করে তুলেছে। এদেশের একদল ইন্ডিয়াপন্থী বামও সহিংসতার উসকানি দিচ্ছে, যা নিন্দনীয়।’

তারা আরো বলেন, ‘উপিডিএফসহ অন্যান্য পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা ছাড়াও নিয়মিতভাবে অপহরণ, চাঁদাবাজি, গুম-খুন ও মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের কারণে পাহাড়ে স্থানীয় বাঙালি ও নৃতাত্ত্বিক নাগরিক সবাই অতিষ্ঠ। ভূমিপুত্র বাঙালি ও ভৌগোলিক নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীকে ‌‘শত্রু’ বানিয়ে ফায়দা নিতে চায় ইন্ডিয়ার মদদপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। সেখানে স্থানীয় বাঙালি ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সবাই পাহাড়ি ও বাংলাদেশি নাগরিক। কোনো বিভেদ-বিদ্বেষ প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। ইউপিডিএফসহ চিহ্নিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে ঘোষণাপূর্বক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘিরে আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্র প্রণয়ন করা সময়ের দাবি।’

হেফাজত নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক নিরাপত্তা পদক্ষেপ আরো বাড়াতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। মুসলিম-অধ্যুষিত বাংলাদেশ থেকে পার্বত্য অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ বানানোর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রও বহু পুরনো। এই ষড়যন্ত্র ঠেকিয়ে দিতে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক ধর্মপ্রাণ ছাত্র-জনতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও বিজিবির পাশে আছে।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন এবং একজন মেজরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও ১৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। এগুলো কীসের লক্ষণ? হঠাৎ করে পাহাড়ে এমন অস্থিরতার নেপথ্যে কারা আছে? অবিলম্বে উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের পেছনে কোনো ক্রীড়নক থাকলে তাকেও খুঁজে বের করতে হবে। খাগড়াছড়ি অখণ্ড বাংলাদেশেরই অংশ। জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অনস্বীকার্য দায়িত্ব। এ বিষয়ে যথাযথ দৃষ্টি দেওয়া এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।’

ধর্ষণ-প্রতিবাদের আড়ালে ভারতীয় মদদপুষ্ট ইউপিডিএফের নাশকতা: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বিবৃতি

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া আবশ্যক। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি—ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের আড়ালে ভারতীয় মদদপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ইউপিডিএফ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ে রক্তপাত, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সেনাবাহিনী–পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছে এবং মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা, সেনা–পুলিশ সদস্যসহ বহু মানুষ আহত হয়েছে। রমেসু বাজারে দোকানপাট ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নাশকতা শুধু আইন-শৃঙ্খলার উদ্বেগ নয়; এটি রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্যও বিরাট হুমকি।’

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ‘সম্প্রতি বিজিবি কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের অভিযানে ইউপিডিএফের জন্য পাচারকৃত প্রায় ৫০০টি দা/চাপাতি উদ্ধার এবং খাগড়াছড়ির গুইমারায় সেনাবাহিনীর ওপর হামলা প্রমাণ করে—পাহাড়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ছত্রছায়ায় এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এরা ধর্ষণের মতো একটি সামাজিক অপরাধকে ঢাল বানিয়ে সেনাবাহিনীকে টার্গেট করছে এবং বাঙালি–পাহাড়ি উভয় জনগোষ্ঠীকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এর সঙ্গে দেশের কিছু ভারতপন্থী বামচক্রও প্রকাশ্যে ও গোপনে যুক্ত হয়ে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।’

তারা বলেন, ‘ইউপিডিএফসহ সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে অপহরণ, গুম-খুন, মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এরা বাংলাদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে শত্রু বানাতে চায়। এটি নিছক অপরাধ নয়, রাষ্ট্রদ্রোহ। তাই তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘সন্ত্রাসী ও দেশদ্রোহী’ ঘোষণা করে নির্মূল করা এখন সময়ের দাবি।’

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি—পাহাড়ে সেনা মোতায়েন ও বিজিবির তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ভারতীয় মদদপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সব ধরনের নাশকতা কঠোর হাতে দমন করতে হবে। পাহাড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে। আমরা সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাদের ধৈর্য, সংযম ও ত্যাগের প্রশংসা করি। সেনা–বিজিবির ওপর আঘাত মানে বাংলাদেশের ওপর আঘাত। দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় ভারতীয় মদদপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চিরতরে দমন করতে হবে।’

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জমিয়তের

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও চরমপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা এসব তৎপরতায় চরমভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রের স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সামরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করে সেনা সদস্যদের উপস্থিতি বৃদ্ধিসহ নিরাপত্তা সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।’

তারা আরও বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করার, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করার, ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা থেকে আগত অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর আস্থা রেখে তাদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

নেতৃদ্বয় বলেন, ‘জমিয়ত মনে করে, দেশের অখণ্ডতা রক্ষা শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়; বরং এটি জাতীয় কর্তব্য। অতএব, এ বিষয়ে দল-মত-নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

খাগড়াছড়ির অস্থিরতা বাংলাদেশ নিয়ে ভূরাজনৈতিক কূটচালের অংশ, ঐক্যবদ্ধভাবে যে কোন চক্রান্ত মোকাবিলা করা হবে : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আজ সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির ঘটনার পরম্পরা দেখলে পরিস্কার বোঝা যায়, পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে এবং প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পরেও ক্রমাগত উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতিকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। আদতে পাহাড়ীদের স্বার্থ রক্ষা বা পাহাড়ীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন এখানে মুখ্য ছিলো না বরং মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে অস্থির করা হয়েছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বহুদিনের চলমান ভূরাজনৈতিক কূটচালের অংশ হিসেবে সুযোগ সন্ধান করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পরিস্কারভাবে বলে দিতে চায় যে, বাংলাদেশের অখন্ডতার প্রশ্ন তৈরি করে এমন কোন চক্রান্ত স্বমূলে প্রতিরোধ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি আধুনিক সীমানাভিত্তিক জাতি রাষ্ট্র। আমাদের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সকলে মিলেই আমরা একটি জাতি। এখানে ভাষা,ধর্ম বা নৃতাত্ত্বিক বিবেচনায় কেউ সংখ্যালঘু না; কেউ সংখ্যাগুরুও না। নাগরিক অধিকারে সকলে সমান। খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের যে ঘটনা ঘটেছে তার অবশ্যই বিচার হতে হবে। প্রশাসনও অভিযুক্ত হিন্দু যুবককে আটক করেছে। তারপরেও বিষয়টা নিয়ে রাজপথে আন্দোলন এবং ক্রমাগত হিংসাত্মক বাক্যবাণে পরিবেশ উত্তপ্ত করার কোন কারণ নাই; প্রয়োজনও নাই। তারপরেও যুদ্ধাবস্থা তৈরি করা হয়েছে, নাগরিকের প্রাণহানী হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার ও সদস্যরা নিজ দেশেই আহত হয়েছেন। পুরো বিষয় বিশ্লেষণ করলে এর পেছনে ভূরাজনীতির নোংরা কৌশল কাজ করছে বলে প্রতীয়মান হয়। আমরা আশা করি, আমাদের অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের পূর্ণ মনোযোগ সহকারে দক্ষতার সাথে এই কূটকৌশলকে প্রতিহত করবে; ইনশাআল্লাহ। আমরা তাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, পুরো বাংলাদেশ আপনাদের সাথে আছে।’

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যে কোন আলোচনায় দেশের একটি শ্রেণী পাহাড়ে সেনা মোতায়েন থাকার বিষয়ে আপত্তি তোলেন। তাদের আপত্তির পেছনে কোন দুরভিসন্ধি আছে কিনা তা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। সেনা মোতায়েন থাকার পরেও পাহাড়ে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। প্রায়শই স্বশস্ত্র অপরাধের ঘটনা ঘটছে। এই বাস্তবতায় সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবী সরল কোন দাবী নয়। এই ধরণের দাবীর মাধ্যমে প্রচ্ছন্ন বার্তা দেয়া হচ্ছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী নিপীড়নমূলক অবস্থান নিয়েছে। আদতে এটা সম্পূর্ণ ভুল। বরং সেখানে সেনাবাহিনী নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অবস্থান করছে। তাই জ্ঞাত বা অজ্ঞাত কোনভাবেই যেনো কারো অবস্থান দেশের সার্বভৌমত্বের বিপক্ষে না যায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহবান করছি।’

তিনি অস্থিরতায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের প্রতি সহমর্মীতা ও সমবেদনা জানান। আহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সাহস, ধৈর্য ও দক্ষতা প্রশংসনীয়। সেনা–বিজিবির ওপর আঘাত মানে বাংলাদেশের ওপর আঘাত।’

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222