সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়েছে আগেই। সেই অর্থে আজ আবু ধাবির শারজার ম্যাচটি ছিল আফগানিস্তানের জন্য সম্মান বাঁচানোর, বাংলাদেশের প্রতিশোধের। ২০১৮ সালে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে লাল সবুজ দলকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল আফগানরা। আজ রশিদ খানদের হোয়াইটওয়াশ করে তা কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দিল বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ১৬টি তিন বা তার বেশি ম্যাচের সিরিজ খেলেছে আফগানরা। যেখানে তৃতীয় বার হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তারা।
তানজিদ হাসানের ভয় কাটিয়ে দেওয়ার পর সাইফ হাসানের অকুতোভয় অর্ধশতকে (৬৪*) ৩ ম্যাচ সিরিজের সবকটি টি টোয়েন্টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে চার উইকেট, দ্বিতীয় ম্যাচে দুই উইকেটে জয়ের পর আজ আফগানদের বিপক্ষে লাল সবুজ দলের জয় ১২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে।
এদিন আফগানদের ১৪৪ রানের লক্ষ্যে নেমে প্রথম ওভারে বেশ সাবধানি ছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারে মুজিব উর রহমানের মেডেন তার জ্বলন্ত প্রমাণ। যদিও দ্বিতীয় ওভার থেকেই মারমুখী ব্যাটিং শুরু করেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন।
পঞ্চম ওভারে উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। অভিষিক্ত বশির আহমেদ আফগানদের প্রথম আনন্দ এনে দিতে পারতেন তানজিদকে ফিরিয়ে। মিডঅনে ক্যাচ তুলেছিলেন তানজিদ। রশিদ খান ডাইভ দিয়ে এক হাতে ক্যাচটা প্রায় নিয়েছিলেন। কিন্তু মুঠোবন্দি করতে পারেননি। যদিও পরের ওভারেই সাজঘরে ফেরেন পারভেজ।
প্রথম উইকেটের পতনের পর সাইফের সঙ্গে জুটি গড়েন তানজিদ হাসান। বাংলাদেশ ওপেনার ৩৩ রানে ফিরলে জাকের আলিকে সঙ্গী করেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩২ রান করা উইকেটরক্ষক ব্যাটার আজ করতে পারেন কেবল ১০। এরপর ডাক মেরে ফেরেন শামীম পাটোয়ারি।

শামীম যখন ফেরেন তখন বাংলাদেশের রান ১০৯। তখনো বন্দরে পৌঁছাতে কিছু পথ বাকি। তবে সবকিছু ঠান্ডা মাথায় সামাল দেন সাইফ হাসান। ৩৮ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। যাতে ছিল ২টি চার ৭টি ছক্কা। শেষদিকে তাকে সঙ্গ দেন আগের দুই ম্যাচের ফিনিশার নুরুল হাসান।
এর আগে বাংলাদেশের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারে উইকেট হারায় আফগানিস্তান। নতুন বলে ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন এই বাঁহাতি পেসার। ইব্রাহিম জাদরানকে ৭ রানে ফিরিয়ে ২০ রানেই উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন শরিফুল। আরেক ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজকে থামান নাসুম আহমেদ। ক্যাচ আউট হয়ে ফেরার আগে তিনি করতে পারেন কেবল ১২ রান।
তিনে নেমে ভালো শুরু পেয়েছিলেন সেদিকুল্লাহ অটল। উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ২৩ বলে ২৮ রান করা এই টপ অর্ডার ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
এরপর ওয়াফিউল্লাহ তারাখিল, আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও মোহাম্মদ নবিরা দ্রুতই ফিরেছেন। তাতে ৮২ রানেই ষষ্ঠ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
ষষ্ঠ ওভারে আক্রমণে এসে শেষ বলে উইকেট পেলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। এরপর দুই স্পেলে করা আরও দুই ওভারে একটি করে উইকেট নিলেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তার নৈপুণ্যে মনে হচ্ছিল, আফগানিস্তানকে গুটিয়ে দেবে বাংলাদেশ।
শেষের হতাশায় সেটি সম্ভব হয়নি। তবু আফগানিস্তানের সংগ্রহ অবশ্য বেশি বড় হয়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান করতে পারল তারা।

৩ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন সাইফ উদ্দিন।
দুর্দান্ত বোলিং করলেও অবশ্য পুরো ৪ ওভার পাননি সাইফ উদ্দিন। ৩ ওভারে মাত্র ১৫ রানে ৩ উইকেট নেন ২৯ ছুঁইছুঁই এই পেস অলরাউন্ডার। তার শেষ ওভারে জাকের আলি অনিকের গ্লাভসের সামনে পড়ায় অল্পের জন্য আরেকটি উইকেট পাননি সাইফ। সাইফ উদ্দিনের ৩ উইকেট ছাড়াও নাসুম আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিব নেন ২টি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৩/৯ (গুরবাজ ১২, ইব্রাহিম ৭, অতল ২৮, তারাখিল ১১, রসুলি ৩২, ওমরজাই ৩, নবী ১, রশিদ ১২, আহমেদজাই ০, মুজিব ২৩*, বশির ২*; শরিফুল ৪-০-৩৩-১, নাসুম ৪-০-২৪-২, সাকিব ৪-০-২৪-২, সাইফ উদ্দিন ৩-০-১৫-৩, সাইফ ১-০-৬-০, রিশাদ ৪-০-৩৯-১)
বাংলাদেশ: ১৮ ওভারে ১৪৪/৪ (ইমন ১৪, তামিম ৩৩, সাইফ ৬৪*, জাকের ১০, শামীম ০, সোহান ১০*; মুজিব ৪-১-২৬-২, ওমরজাই ৩-০-১২-১, বশির ৩-০-৩৮-০, রশিদ ৪-১-১৩-০, আহমেদজাই ৪-০-৫০-১)
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী
টিএইচএ/
