হাসান আল মাহমুদ >>
রাজধানীর মিরপুরে পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ আলেম রাজনীতিবিদরা। তাঁরা নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
পীর সাহেব চরমোনাইয়ের শোকবার্তা
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই, বুধবার (১৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে মিরপুরের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিবছর অগ্নিকাণ্ডে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়। অগ্নিকাণ্ডের পরে কিছুদিন তৎপরতা দেখা গেলেও অচিরেই তা স্তিমিত হয়ে যায়। বিদ্যমান অগ্নিনিরাপত্তা আইনগুলোর বাস্তবায়ন হয় না, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সার্বিক অব্যবস্থাপনার কারণে নিরীহ মানুষকে প্রাণ দিতে হচ্ছে—একটি সভ্য দেশে এমন পরিস্থিতি সহ্য করা যায় না। তাই অগ্নিনিরাপত্তাসহ জননিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট আইনগুলো পর্যালোচনা করতে হবে এবং সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
পীর সাহেব চরমোনাই নিহতদের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের শোক ও আহ্বান
এক পৃথক বিবৃতিতে মিরপুর অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’
নেতৃদ্বয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তাঁরা আরও বলেন, ‘এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ভবিষ্যতের জন্য অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং সকল শিল্প–প্রতিষ্ঠান, আবাসন ও বাণিজ্যিক এলাকায় ফায়ার সেফটি নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।’
পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি
আলেম নেতারা মনে করেন, শুধু শোক প্রকাশ নয়, এখন সময় বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনগুলোর কঠোর প্রয়োগ, অবকাঠামোগত সংস্কার এবং সচেতনতা কার্যক্রমই পারে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধ করতে।
হাআমা/
