উত্তরায় খতিবকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতের চিঠি মিম্বারেই ছিঁড়ে ফেললেন খতিব

by hsnalmahmud@gmail.com

হাসান আল মাহমুদ >>

রাজধানীর উত্তরায় এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। জুমার বয়ানের সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রেরিত ‘হুঁশিয়ারিমূলক’ চিঠি মসজিদের মিম্বারেই প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেছেন খতিব মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী।

বিজ্ঞাপন
banner

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের বায়তুন নূর জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়— খতিব সাহেব জুমার বয়ানের মাঝপথে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল আমাকে নোটিশ দিয়েছে। আপনারা কি সবাই একমত?’

উপস্থিত মুসল্লিরা তখন একসাথে উচ্চ স্বরে “না” বলে প্রতিবাদ জানান। এরপর খতিব আবার বলেন, ‘কে কে একমত, হাত তুলুন দেখি?’

কেউ হাত না তোলায় তিনি বলেন, ‘এই চিঠি অবাঞ্ছিত। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এবং সকল মুসল্লির পক্ষ থেকে এটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।’

এরপরই তিনি চিঠিটি উঁচু করে ধরে সকলের সামনে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলেন এবং দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘খবরদার! মসজিদে এরকম আস্ফালন দেখাবেন না।’

জামায়াতের হুঁশিয়ারিমূলক চিঠিতে যা বলা হয়েছে

জামায়াতের উত্তরা পশ্চিম থানা শাখার দপ্তর সম্পাদক জিএম আসলাম স্বাক্ষরিত ১৬ অক্টোবরের ওই চিঠিতে দাবি করা হয়— ১০ অক্টোবরের জুমার খুতবায় খতিব মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী “জামায়াতের নাম উল্লেখ করে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।”

চিঠিতে “বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে” এবং “ভবিষ্যতে এমন না করলে” হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, “যে কোনো পরিস্থিতির দায়ভার খতিব ও মসজিদ কমিটিকে নিতে হবে।”

চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় স্থানীয় আর্মি ক্যাম্প, ডিএমপি উত্তরা বিভাগ ও থানায়।

সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খতিব কাসেমীর এই সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করছেন বহু মানুষ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাছিব আর রহমান লিখেছেন— ‘উত্তরায় জমিয়ত নেতা নাজমুল হাসান কাসেমীকে দলীয় সন্ত্রাসের আদলে লিখিত হুমকি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সেই চিঠি মসজিদেই ছিঁড়ে ফেলেছেন তিনি। মুসুল্লিরাও এই ধর্মীয় সন্ত্রাসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি এক অসাধারণ দৃশ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের ধর্মীয় মোড়লগীরি করার সুযোগ কওমি আলেমরা যত কম দেবে, ইসলাম তত সুরক্ষিত থাকবে। হেফাজতের এ বিষয়ে আরও কঠোর হওয়া উচিত।’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক কে এম তাহমীদ হাসান বলেন, ‘এখন এমন এক সময় এসেছে, যখন কিছু ‘ইসলামী দল’ ধর্মীয় পরিসর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে ইসলামের ব্যাখ্যা দেওয়া কি এখন অপরাধ হয়ে যাবে?’

তিনি এটিকে ‘নব্য ফ্যাসিবাদী প্রবণতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় পরিসরে সেন্সর বসানো সভ্য সমাজে মানায় না। আজ একজন আলেম যদি কোরআন–হাদীসের আলোচনায় ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরেন, সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে— এটা ভয়ঙ্কর সংকেত।’

প্রবাসী তরুণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহফুজ চৌধুরী লিখেছেন, ‘একজন খতিব জুমার বয়ানে রাজনীতিক শিশির মনিরের ‘রোজা ও পূজা’ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বলে জামায়াত তাকে হুমকি দিচ্ছে! অথচ আওয়ামী লীগ যখন শতবার দলীয় ব্যানারে মসজিদ ব্যবহার করেছে, তখন তাদেরকে কেউ চিঠি দেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি নিছক হুমকি নয়— এটা এক ধরনের ফ্যাসিবাদী আচরণের চর্চা, যা এখন থেকেই শুরু করছে তারা।’

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222