হাসান আল মাহমুদ >>
দেশজুড়ে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম, মিরপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগার ধারাবাহিক ঘটনায় নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন— এসব আগুন নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাশকতার অংশ হতে পারে।
তারেক রহমানের গভীর উদ্বেগ, স্বচ্ছ তদন্তের দাবি
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শাহজালাল বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ক্ষতিগ্রস্ত সকলের জন্য আমার চিন্তা ও প্রার্থনা রইল।’
ফায়ার সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার দ্রুত তৎপরতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি। এই ঘটনাগুলো বারবার ঘটছে— এটা কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি।’
‘আগুন সন্ত্রাসে’ উদ্বেগ, আওয়ামী সংশ্লিষ্টতা তদন্তের দাবি উলামা পরিষদের
বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ আগুনগুলো “নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।”
সংগঠনের সভাপতি মুফতি কামালুদ্দিন ও সেক্রেটারি মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন বলেন, ‘এসব অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকতে পারে বলে আমাদের দৃঢ় সন্দেহ। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি— অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে আগুন সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনুন।’
তারা আরও জানান, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে পরিষদের স্বেচ্ছাসেবক দল বিমানবন্দরের আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে অংশ নিয়েছে।
খেলাফত মজলিসের উদ্বেগ: “অগ্নিকাণ্ডে নাশকতার গন্ধ”
খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘শাহজালাল বিমানবন্দরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কেবল যাত্রী ও কার্গো মালিকদের ক্ষতি নয়, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণেরও আশঙ্কা তৈরি করেছে।’
তারা আরও বলেন, ‘ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে যে, এসব নিছক দুর্ঘটনা নয়। দেশবিরোধী অপশক্তি নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত। প্রশাসনকে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সামাজিক মাধ্যমে বাড়ছে নাশকতা সন্দেহ
বিভিন্ন বিশিষ্টজনও সামাজিক মাধ্যমে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মুহিউদ্দিন ফারুকী: ‘আপা নেই, কিন্তু আপার লোকেরা এখনো বহাল। এ আগুনের পেছনে ভিন্ন কিছু আছে।’
কবি হাসনাইন ইকবাল: ‘হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেড়ে গেল কেন? কোন স্যাবোটাজ নয় তো?’
সাকিব মুস্তানসির: ‘দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি, এসব আগুন দুর্ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত।’
মুফতি মুহিউদ্দিন কাসেমী: ‘বিমানবন্দরের আগুনে কোটি টাকার ক্ষতি হলো। ইন্টারিম সরকার জনগণকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না।’
খতিব তাজুল ইসলাম (নিউইয়র্ক): ‘সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আগুন লাগানো হচ্ছে।’
সরকারের সতর্ক বার্তা: নাশকতার প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডগুলো নিয়ে জনগণের উদ্বেগ সম্পর্কে সরকার অবগত। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে। ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়— ‘যদি এসব অগ্নিকাণ্ড নাশকতার ফল হয়ে থাকে, তবে এর উদ্দেশ্য আতঙ্ক ও বিভাজন সৃষ্টি করা। কিন্তু তারা সফল হবে কেবল তখনই— যদি আমরা ভয়কে আমাদের যুক্তি ও ঐক্যের ওপর প্রাধান্য দিতে দিই।’
সরকার ঐক্য, শান্তভাব ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে নতুন গণতন্ত্রের প্রতি যেকোনো হুমকি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক বড় অগ্নিকাণ্ডের সারসংক্ষেপ
- ১৮ অক্টোবর: শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড; ৫ ঘণ্টা পার হলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
- ১৭ অক্টোবর: চট্টগ্রাম ইপিজেডের একটি কারখানায় আগুন; ১৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে।
- ১৭ অক্টোবর রাত: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সূতার মিলে অগ্নিকাণ্ড; কোটি টাকার ক্ষতি।
- ১৪ অক্টোবর: মিরপুর রূপনগরে কেমিক্যাল গোডাউন ও পোশাক কারখানায় আগুন; ১৬ জনের মৃত্যু।
হাআমা/
