হাসান আল মাহমুদ >>
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন আদেশ জারি, নভেম্বরে গণভোট আয়োজন, প্রশাসন পুনর্গঠন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে রাজধানীতে একাধিক ইসলামি রাজনৈতিক দল পৃথক বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিতে নেতারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন— সৎ, যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে প্রশাসন পুনর্গঠন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করলে জনগণ কোনো দায়সারা নির্বাচন মেনে নেবে না।
রাজধানীর মহাখালীতে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিশাল সমাবেশে দলের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আগামী সংসদকে কুরআনের সংসদে পরিণত করতে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘গত ৭৮ বছরে কেউ আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়নি, কিন্তু এখন দেশে ইসলামী মূল্যবোধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি হয়েছে। সেই জনমতকে সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতের নৈশকালীন ও বিনা ভোটের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে। প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তির জন্য নভেম্বরের মধ্যেই গণভোটের আয়োজন জরুরি।’
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিসও পৃথক সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায়।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ বলেন, ‘পুরোনো বন্দোবস্তের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে আগের পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের জনতা প্রতিহত করবে। জুলাইয়ের এতো রক্ত ও জীবনের পরে কোন অবস্থাতেই আর কোন ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়া হবে না। তাই জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি দিতে হবে। নির্বাচনের আগে গণভোট হতে হবে।’
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এটি চলমান যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল। বক্তারা বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবি জাতির অস্তিত্ব ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তারা অবিলম্বে এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা আবদুল মাজেদ আতহারী বলেন, ‘জুলাই শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা বরদাশত করা হবে না। অবিলম্বে বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে গণভোট দিতে হবে।’
খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে নির্বাচন ও সংস্কার— দুটোই অর্থহীন হবে। জনগণ একটি ন্যায্য ও ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ চায়।’
খেলাফত মজলিস তাদের ৬ দফা দাবি তুলে ধরে—
- জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজন।
- জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু।
- সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
- ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
- ফ্যাসিবাদী দল ও দোসরদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করা।
- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়া।
সমাবেশগুলোতে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নই দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ। সরকার যদি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেরি করে, তবে আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
হাআমা/
