দিনাজপুরের বীরগঞ্জে প্রাণ দাসের (২৫) মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—পিবিআই দিনাজপুরের তদন্তে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন হয়েছে।
প্রথমে ভিকটিমের শাশুড়ি জোসনা রানী (৪৫) বীরগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে জানান, তার জামাই প্রাণ দাস ইঁদুর মারার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ২৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে বীরগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (নং-১৭/২৫) রুজু করা হয়।
পরে নিহতের মা সারতী রানী দাস (৫৪) ৩১ জুলাই ২০২৫ তারিখে পিবিআই দিনাজপুর অফিসে এসে অভিযোগ করেন যে, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এবং ন্যায়বিচারের আশায় সঠিক তদন্তের দাবি জানান।
এরপর পিবিআই দিনাজপুরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ এসআই (নিরস্ত্র) মো. মেহেদী হাসানকে মামলার ছায়া তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণে উঠে আসে—প্রাণ দাসকে তার স্ত্রী পূজা রানী দাস, শ্বশুর নিপেন্দ্র নাথ রায়, শাশুড়ি জোসনা রানী এবং শ্যালক দিপু রায় মিলে হত্যা করেছে। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে বিষ খাওয়ার নাটক সাজানো হয়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে ২০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রাণ দাসের মা সারতী রানী দাস চারজনের বিরুদ্ধে বীরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন—দিপু রায় (২২), পূজা রানী দাস (১৯), জোসনা রানী (৪৫) ও নিপেন্দ্র নাথ রায় (৫০), সাথে অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল এবং অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. মাহফুজ্জামান আশরাফের নির্দেশনায় এসআই (নিরস্ত্র) মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পিবিআই দিনাজপুর টিম অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে নিজ বাড়ি ডাকেশ্বরী গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।
গ্রেফতারকৃত দিপু রায় আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরবর্তীতে আদালতের অনুমতিতে দিপু রায় ও পূজা রানী দাসকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়—পূজার পরকীয়া সম্পর্ক থেকে দাম্পত্য কলহের জেরেই পরিবার মিলে প্রাণ দাসকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।
দিপু রায়ের দেখানো মতে তার ঘর থেকে ইট তৈরির ফার্মা ও ব্যবহৃত খাট জব্দ করা হয়।
পিবিআই জানায়, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে।
হাআমা/
