জামায়াত–চরমোনাই জোট না সমঝোতা? কোন পথে যাচ্ছে বৃহৎ দুই ইসলামী দল

by hsnalmahmud@gmail.com

হাসান আল মাহমুদ >>

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে দুই দলের ঘনিষ্ঠ অবস্থান দৃশ্যমান হলেও, উভয় দলই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক জোটের ধারণা নাকচ করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

ইতোমধ্যে ৮টি ইসলামী দল যুগপৎ আন্দোলনে শরীক হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী দুটি দল হলো জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে দল দুটির কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অবস্থানে মিল থাকায় জনমনে ধারণা তৈরি হয়েছে—তারা হয়তো নির্বাচনে এক মঞ্চে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকের প্রত্যাশা, সাংগঠনিকভাবে সুসংহত এ দুটি দল যদি এক বাক্সে নির্বাচনে অংশ নেয়, তবে ইসলামী রাজনীতিতে নতুন মাইলফলক তৈরি হতে পারে।

তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ‘যারা মনে করছেন জামায়াতের নেতৃত্বে আমরা ইসলামী আন্দোলনসহ মাঠে ৮ দল কাজ করছি—বিষয়টা তা নয়। আমরা একটা একটা বিষয়ে সমঝোতা নিয়ে কাজ করছি। এখানে জামায়াতের সঙ্গে তো জোটের প্রশ্নই আসে না।’

একই অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী’র নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও জোট নয়, বরং নির্বাচনী সমঝোতার দিকেই ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা একটা সমঝোতা নিয়ে কাজ করছি। ওয়ান বক্স ইলেকশন পলিসি থাকবে আমাদের।’

এই অবস্থানের মধ্যেই বুধবার (৫ নভেম্বর) জামায়াতে ইসলামী’র আমীর ডা. শফিকুর রহমান সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্পষ্টভাবে জানান, ‘আমরা কোনও জোট করার সিদ্ধান্ত নিইনি, জোট করবও না। আমরা নির্বাচনী সমঝোতা করব। শুধু ইসলামী দল না, দেশপ্রেমিক প্রতিশ্রুতিশীল যারা আছেন, তারাও সংযুক্ত হচ্ছেন। আগামীতে আরও অনেক দল এই নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হবেন। আমরা সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই।’

এরই মধ্যে নির্বাচনী কাঠামো, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট বিষয়ে ‘সমঝোতামূলক রূপরেখা’ তৈরির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের কৌশল নিয়ে আলোচনার পর দলটির আমীর এই কমিটি গঠন করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামী ধারার শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে ছড়ানো অবস্থায় ছিল। এখন যদি তারা জোট না করেও সমঝোতার মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, তবে এটি ইসলামী রাজনীতির জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। এতে বিভক্তি নয়, বরং যৌথ উদ্যোগের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।’

তবে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, জোট না গড়লে নির্বাচনী মাঠে তাদের প্রভাব কতটা কার্যকর হবে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ‘যদি এই সমঝোতা কাঠামো শুধুই কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে ইসলামী দলগুলো বিএনপির মতো প্রধান রাজনৈতিক শক্তির বিপরীতে উল্লেখযোগ্য ভারসাম্য গড়ে তুলতে পারবে না।’

তবুও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, ‘জোট নয় বরং সমঝোতার পথে হাঁটার এই কৌশল বাস্তববাদী চিন্তার প্রতিফলন। ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই নতুন পদ্ধতি আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।’

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222