আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, প্রখ্যাত শায়খুল হাদিস মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী রহ. ইন্তেকাল করেছেন— ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০। স্ত্রী দুই ছেলে তিন মেয়ে ও নাতি নাতনিসহ সংখ্যগ্রাহী রেখে গেছেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি ৩৬ নিউজকে নিশ্চিত করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী।
জানাযা ও দাফন সম্পর্কে মুফতি সিরাজী জানান, ‘জানাযার নামাজ রবিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাযা শেষে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ চড্ডা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’
মাওলানা কুদ্দুস কাসেমী রহ. ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর ছোট ভাই। রাজধানীর মানিকনগর মাদরাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাদিসের দরস দিতেন। মৃত্যুর আগের দিন তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে গেলে চিকিৎসকরা লাইফ সাপোর্ট দেয়ার পরামর্শ দেন; তবে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের জানানো হয়—লাইফ সাপোর্ট ছাড়া সম্ভাব্য সব চিকিৎসা যেন দেওয়া হয়।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শোক
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এক যৌথ শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন—‘মাওলানা কুদ্দুস কাসেমী রহ. ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান, দূরদর্শী ও খাঁটি আহলে হক আলেম। জমিয়তের আদর্শ বাস্তবায়নে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর ইন্তেকালে আমরা একজন অভিভাবক হারালাম।’
তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শোক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক শোকবার্তায় বলেন—‘মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী রহ. ছিলেন ইলমি অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, স্থিরতা ও তাকওয়া প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করে যাবে। বিশেষত হাদিসের খেদমতে তাঁর অবদান আলেম সমাজের মাঝে দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় থাকবে।’
তিনি আরও বলেন—‘তাঁর ইন্তেকালে দেশের আলেম সমাজ একজন দায়িত্বশীল মুরব্বি, নরম স্বভাবের উপদেষ্টা ও আন্তরিক খেদমতগারকে হারাল। উম্মাহর জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি।’
মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তিনি শোকাহত পরিবার-পরিজন, ছাত্র ও মুহিব্বিনদের জন্য দোয়া করেন।
নেজামে ইসলাম পার্টির শোক
মাওলানা কুদ্দুস কাসেমীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর আল্লামা সারওয়ার কামাল আজিজি, মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার, সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও সংগঠন সচিব মাওলানা আবু তাহের খান।
নেতৃবৃন্দ বলেন—‘তাঁর ইন্তেকালে আমরা একজন দায়িত্বশীল মুরব্বি ও আন্তরিক খেদমতগারকে হারালাম। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মর্যাদা দান করুন।’
খেলাফত মজলিসের শোকবার্তা
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের পৃথক এক শোকবার্তায় বলেন—মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী রহ. ছিলেন প্রজ্ঞাবান আলেমে দ্বীন ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তিত্ব। তাঁর ইন্তেকাল ইলমি অঙ্গনের জন্য গভীর ক্ষতি।”
নেতৃবৃন্দ তাঁর মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও শাগরেদদের জন্য ধৈর্যের দোয়া করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের শোকবার্তা
জমিয়তের সহ-সভাপতির ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। সংগঠনটির ঢাকা মহানগরের আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান আলেমে দ্বীন ও রাজনৈতিক সচেতন ব্যাক্তি। অসংখ্য মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ছাড়াও তিনি সর্বদা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন ছিলেন এবং ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে গিয়েছেন। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, ছাত্র ও অনুসারীদেরকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দেন।’
জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশ’র শোক
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি, আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী রহ. এর সহোদর হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমীর ইন্তেকালে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন জাতীয় ইমাম পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা গাউসিয়া মার্কেট জামে মসজিদের সম্মানিত খতীব মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহ্ইয়া।
এক শোকবার্তায় তিনি বলেন— “মাওলানা আবদুল কুদ্দুস কাসেমী” ছিলেন দেশের একজন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, নিবেদিতপ্রাণ দাঈ এবং ইসলামী আন্দোলনের একনিষ্ঠ পথিকৃৎ। তাঁর মৃত্যুতে দেশ ও জাতি এক মহামূল্যবান দ্বীনি সম্পদ হারালো। উম্মাহর রাহবারদের এমন এক স্থান শূন্য হলো যা পুরণ হবার নয়।
জাতীয় ইমাম পরিষদের সভাপতি মুফতী আব্দুল্লাহ ইয়াহ্ইয়া মরহুমের পরিবার-পরিজন ও ভক্তদের প্রতি সান্তনা জ্ঞাপন করে বলেন— ‘আল্লাহ তায়ালা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সুউচ্চ দরজা নসীব করুন, তাঁর আমলসমূহ কবুল করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সহকর্মী ও ভক্তদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দিন।’
কওমি পরিষদ বাংলাদেশের শোক
কওমি পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি ও পীর ইয়ামেনী জামে মসজিদের খতিব মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী এক বিবৃতিতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেন—‘তিনি ছিলেন ইলমি অঙ্গনের এক মূল্যবান সম্পদ; তাঁর ইন্তেকালে জাতি একজন অভিজ্ঞ আলেমকে হারালো।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী রহ. ছিলেন দেশের কওমি অঙ্গনের গ্রহণযোগ্য আলেম, অভিজ্ঞ শিক্ষক ও সমাজের সম্মানিত মুরব্বি। তাঁর ইলম, খেদমত ও গুণাবলির প্রভাব দীর্ঘদিন স্মরণীয় থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর রুহকে জান্নাতুল ফিরদাউসে উঁচু মর্যাদা দান করুন। আমিন।’
হাআমা/
