ডেস্ক রিপোর্ট:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চিরকুট লিখে আত্মহত্যার ঘটনায় নিহত আয়েশা সিদ্দিকা (১৯)–এর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেছেন তাঁর বাবা; কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ ফারুক। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে দেশে ফিরে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের তিনি এ অভিযোগ জানান।
উল্লেখ্য, ৮ ডিসেম্বর সকালে সুন্দরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম আজিমপুর এলাকায় স্বামী ওমান প্রবাসী লিয়াকত আলীর বাড়ি থেকে আয়েশার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়।
ফারুক বলেন, “প্রায় ১৫–২০ দিন আগে আয়েশা স্বামীকে নিয়ে আলাদা ঘরে উঠলে শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর মুরাদ ও ননদ এ্যানি নিয়মিত নির্যাতন শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, ১৮ লাখ টাকা কাবিনের অর্থ দাবি করতেই মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি জানান, “নির্যাতনের কারণে ৩ ডিসেম্বর মেয়েকে তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।” তিনি আরও বলেন, “মেয়ের স্বামী বিদেশ যাওয়ার সময় ও বাড়ি নির্মাণের জন্য কয়েক দফায় তিনি টাকা দিয়েছেন।”
ফারুক অভিযোগ করেন, থানাকে প্রভাবিত করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ৩০২ ধারায় মামলা নিতে রাজি নয় তারা। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এলে আমরা হত্যা মামলা করবো, বলেন তিনি।
স্থানীয় সমাজপতি নজরুল ইসলাম বলেন, “ফাঁস নিলে খাটে উঠে বাঁচার চেষ্টা করা সম্ভব। সব পরিস্থিতি দেখে পরিকল্পিত হত্যার সন্দেহ জোরালো।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও দাবি করেন, হত্যার পর আয়েশাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। তাঁরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে মরদেহ বাবার বাড়িতে আনা হলে শোকের মাতম নেমে আসে। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করেনি। মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এমএআর/
