আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ >>
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫) মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে শুরু হওয়া জানাজা ৩টা ৫ মিনিটে সম্পন্ন হয়। নামাজে জানাজার ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব উপমহাদেশের অন্যতম শীর্ষ হাদিসবিশারদ দেশের মুহাক্কিক শীর্ষ আলেম মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক।
জানাজার শেষে এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা ঘটে, যখন দেশের জনপ্রিয় আলেমরা কফিন বহন করেন। সূত্রমতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শাইখুল হাদিস আল্লামা মুহাম্মাদ মামুনুল হক এবং আস-সুন্নাহ ফাউণ্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ও ইসলামি বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীও অন্যান্য মানুষদের সঙ্গে দেশনেত্রীর কফিন নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। এই মুহূর্ত উপস্থিত লাখো মানুষের মধ্যে শোক ও শ্রদ্ধার আবহকে আরও ঘনীভূত করে।
আল্লামা মামুনুল হকের ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে জানানো হয়, ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের আপোষহীন নেত্রী, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ আদায় করেন ও খাটিয়া কাঁধে নেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ও ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আল্লামা মামুনুল হক।’
জানাজায় অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বিদেশি কূটনীতিক এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
জানাজা শুরুর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রিয় নেত্রীর স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আসা আকস্মিক হলেও দেশের প্রয়োজনে তিনি ছিলেন অপরিহার্য।” পরে তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মায়ের পক্ষে ক্ষমা চেয়ে সবাইকে দোয়া করার অনুরোধ করেন।
শহর ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষের ঢল জানাজাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে জনস্রোত খামারবাড়ি, আসাদগেট ও ফার্মগেট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
সামাজিক মাধ্যমে জানাজায় দেশের শীর্ষ ও জনপ্রিয় তিন আলেমের কফিন বহনের বিষয়টি বিরাট প্রশংসা কুড়িয়েছে। কওমি শিক্ষাবোর্ড বেফাকের প্রধান পরিচালক আল্লামা উবায়দুর রহমান খান নদভী লিখেছেন, এটি সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সলাতুল জানাযা এবং ইসলামী ঐতিহ্যে বিরল ঘটনা। খতিব ও আলেম সাংবাদিক আলী হাসান তৈয়ব লিখেছেন, “মরহুমা খাটিয়া তুলে নিলেন শায়খ মামুনুল হক ও মাওলানা আজহারী; আর জানাজা পড়ালেন মুফতি আবদুল মালেক। বিরল ও ঈর্ষণীয় ভাগ্য।”
উম্মে তালহা নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “আলেমদেরকে সম্মান করেছেন, তাই আল্লাহ তাকে দুনিয়াতেও সম্মানিত করেছেন। আখিরাতেও আল্লাহ সম্মানিত করবেন।”
উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
হাআমা/
