ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল খাতে কমপক্ষে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পেয়েছন শীতল প্রতিক্রিয়া। এমনকি একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দেশটি বর্তমানে ‘বিনিয়োগের অযোগ্য’। বিবিসি।
কয়েক মাস ধরে সামরিক চাপ ও হুমকি দেওয়ার পর গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মাদক পাচারের অভিযোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাস’ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই অভিযানের পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলা কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। একই সঙ্গে দেশটির বিশাল তেল সম্পদের ওপরও মার্কিন কর্তৃত্বের কথা জানান তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক বছর ভেনেজুয়েলার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন, যাকে সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, রদ্রিগেজ যতদিন ওয়াশিংটনকে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবেন, ততদিনই তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউসে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। বৈঠকে এক্সন মবিল, শেভরন ও কনোকোফিলিপসসহ বড় বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার জীর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো নতুন করে গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ এখন মার্কিন কোম্পানিগুলোর সামনে এসেছে। তার দাবি, এতে দেশটির তেল উৎপাদন নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হয়েছে, যার আওতায় ভেনেজুয়েলা ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোতে সরবরাহ করবে। এতে মার্কিন বাজারে জ্বালানির দাম কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে এই প্রস্তাবে তেল কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে স্পষ্ট দ্বিধা দেখা যায়। এক্সন মবিলের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস সরাসরি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অতীতে সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে ভেনেজুয়েলা এখনো বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
উল্লেখ্য, সত্তরের দশকে ভেনেজুয়েলায় দৈনিক তেল উৎপাদন ছিল প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সংকটে বর্তমানে তা নেমে এসেছে বৈশ্বিক সরবরাহের মাত্র এক শতাংশে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুদের দেশ হওয়ায় ভেনেজুয়েলা একদিকে যেমন বড় ঝুঁকি, অন্যদিকে তেমনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশাল সম্ভাবনার দেশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
টিএইচএ/
