আসন সমঝোতায় ঐকমত্যের পথে জামায়াত-চরমোনাইসহ ১১ দল?

by hsnalmahmud@gmail.com

হাসান আল মাহমুদ >>

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে চলমান টানাপড়েন নতুন মোড় নিয়েছে। পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে— জোটের ভেতরের বরফ কি গলতে শুরু করেছে, নাকি জট আরও ঘনীভূত হচ্ছে?

বিজ্ঞাপন
banner

১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বুধবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অনিবার্য কারণবশত নির্ধারিত সময়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে।’

এর আগে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে বিকেল সাড়ে ৪টায় সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এতে আসন সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে— এমন প্রত্যাশা ছিল রাজনৈতিক মহলে।

ইসলামী আন্দোলনের অনাগ্রহ ও অভ্যন্তরীণ বৈঠক

সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণার পরপরই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এতে অংশ নেবে না— এমন গুঞ্জন ছড়ায়। দলটির শীর্ষ নেতারা জানান, ওই সময় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘মজলিসে আমেলা’র বৈঠক চলছিল। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসলামী আন্দোলনের অবস্থানের কারণেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেজামে ইসলাম পার্টির এক নেতা বলেন, ‘আমরা চাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই ঘোষণা আসুক। তাই আলোচনা আরও প্রয়োজন।’

আসন বণ্টনে মূল জট

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন বণ্টনের হিসাবেই মূল সংকট। সমঝোতা অনুযায়ী জামায়াত ১৯০টি আসনে, ইসলামী আন্দোলন ৪৫টি, এনসিপি ২৫–৩০টি আসনে প্রার্থী দিতে আগ্রহী। অন্য দলগুলো তুলনামূলক কম সংখ্যক আসন পাচ্ছে।

তবে ইসলামী আন্দোলন তাদের ‘সম্মানজনক’ সংখ্যক আসনের দাবি পূরণ না হওয়ায় আপত্তি জানিয়েছে। বিশেষ করে ৮–১০টি আসনে একাধিক দলের শীর্ষ নেতাদের আগ্রহ থাকায় জটিলতা সবচেয়ে বেশি। এসব আসনে প্রয়োজনে ‘ওপেন ইলেকশন’ বা উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিন্তাও আলোচনায় রয়েছে।

জামায়াত আমিরের সংযমের আহ্বান

এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সংযমের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।’

‘একবক্স নীতি’ বহাল থাকার বার্তা ইসলামী আন্দোলনের

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানিয়েছে, তারা এখনও ইসলামপন্থীদের ‘একবক্স নীতি’তে অটল। দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বুধবার বিকালে অনুষ্ঠিত দলের এক জরুরী বৈঠক শেষে বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পরে দেশ,জাতি ও ইসলামের স্বার্থে পীর সাহেব চরমোনাই ইসলামপন্থীদের একবক্স নীতির ঘোষণা করেন। সেই নীতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনো অটল থেকে কাজ করে যাচ্ছে।’

‘আমাদের পারস্পরিক আলোচনা চলমান। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই একবক্স নীতির রুপরেখা ও ধরণ পরিস্কার হবে।’- জানান তিনি

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, রাজনৈতিক মহল, সাংবাদিক, দেশপ্রেমিক জনতা ইসলামপন্থার একবক্স নীতি নিয়ে যে আগ্রহ প্রকাশ করছেন তা দেশ ও ইসলামের জন্য প্রেরণাদায়ক। ইনশাআল্লাহ জাতির প্রত্যাশা পূরণ হবে।

বরফ গলছে নাকি নতুন সমীকরণ?

সব মিলিয়ে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হলেও আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি। বরং পর্দার আড়ালে দরকষাকষি জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য হলে ইসলামপন্থী দলগুলোর একটি শক্ত নির্বাচনী জোট গড়ে উঠতে পারে, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222