হাসান আল মাহমুদ >>
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে চলমান টানাপড়েন নতুন মোড় নিয়েছে। পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, সমঝোতা ভেঙে যাচ্ছে না; বরং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে রেখেই চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানোর শেষ চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছেন এবং চরমোনাইয়ের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন,
“আমরা ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যেভাবে একসঙ্গে শুরু করেছি, সেভাবেই একসঙ্গে এগোতে চাই ইনশাআল্লাহ।”
সংবাদ সম্মেলন স্থগিত, আলোচনা জোরদার
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে বিকেল সাড়ে চারটায় ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা থাকলেও তা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়। জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় জানান, ‘অনিবার্য কারণবশত’ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন সম্ভব হয়নি, নতুন সময় পরে জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ওঠে— জোটের ভেতরের বরফ গলছে, না কি নতুন করে সংকট তৈরি হচ্ছে?
মামুনুল হকের ভূমিকা
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাওলানা মামুনুল হক। অসম্পূর্ণ বা অসংলগ্ন সমঝোতার ভিত্তিতে ঘোষণা দিতে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার ওপর জোর দেন। তার উদ্যোগেই আবারও আলোচনা শুরু হয় এবং বর্তমানে সেই আলোচনা চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, “ইসলামী আন্দোলন সমঝোতায় আছে— এখনই এটা বলা যাবে না, আবার তারা বের হয়েও গেছে— সেটাও বলা যাবে না। রাত আটটার মধ্যেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে।”
আসন বণ্টনেই মূল জট
জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন বণ্টনের হিসাবেই মূল সংকট। প্রাথমিক সমঝোতায় জামায়াত ১৯০টি আসন, ইসলামী আন্দোলন ৪৫টি এবং এনসিপি ২৫–৩০টি আসনে প্রার্থী দিতে আগ্রহী। তবে ইসলামী আন্দোলন ‘সম্মানজনক’ আসন সংখ্যা নিশ্চিত না হওয়ায় আপত্তি তুলেছে। বিশেষ করে ৮–১০টি আসনে একাধিক দলের শীর্ষ নেতাদের আগ্রহ থাকায় জটিলতা বেশি তৈরি হয়েছে।
এমনকি কিছু আসনে ‘ওপেন ইলেকশন’ বা উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানিয়েছে, তারা এখনো ইসলামপন্থীদের ‘একবক্স নীতি’তে অটল। দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত একবক্স নীতিতে আমরা এখনো অটল আছি। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই এর রূপরেখা পরিষ্কার হবে।”
সংযমের আহ্বান জামায়াত আমিরের
এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”
বরফ গলছে নাকি নতুন সমীকরণ?
সব মিলিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা স্থগিত হলেও আলোচনা থেমে নেই। বরং নীরব দরকষাকষি আরও তীব্র হয়েছে। শেষ পর্যন্ত যদি ঐকমত্য হয়, তবে ইসলামপন্থী দলগুলোর একটি শক্তিশালী নির্বাচনী জোট গড়ে উঠতে পারে, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এখন সবার দৃষ্টি রাত আটটার দিকে— সেখানেই নির্ধারিত হবে, সমঝোতার বরফ সত্যিই গলল, না কি রাজনীতির নতুন অঙ্ক শুরু হলো।
হাআমা/
