১১ না ১০ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা, কিছুক্ষণ পরেই জানা যাবে

by hsnalmahmud@gmail.com

চিফ রিপোর্টার : রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠেয় সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— ঘোষণাটি হবে কি ১১ দলীয় ঐক্যের নামে, না কি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছাড়াই ১০ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা হিসেবে?

রাত আটটায় অনুষ্ঠেয় এই সংবাদ সম্মেলন থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার কথা। এরই মধ্যে ভেতরে ভেতরে দরকষাকষি, শেষ মুহূর্তের ফোনালাপ আর বৈঠকের মাধ্যমে চলছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি।

বিজ্ঞাপন
banner

২৫০ আসনে ১০ দলের সমঝোতা চূড়ান্ত, ৫০টি আসন নিয়ে অনিশ্চয়তা

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি দল ২৫০টি আসনে প্রার্থী তালিকা নিয়ে একমত হয়েছে। এই তালিকা সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সম্মতি আসেনি।

এই ৫০টি আসনই এখন জোটকে ১১ দলীয় রূপ দেবে, না কি ১০ দলীয়তেই সীমাবদ্ধ রাখবে — তার মূল নির্ধারক।

ইসলামী আন্দোলন: আছে কি নেই, পরিষ্কার নয়

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, “ইসলামী আন্দোলনের নেতারা আশ্বস্ত করেছেন তারা সংবাদ সম্মেলনে আসবেন। আমরা আশা করছি ১১ দলীয় জোট থাকবে।”

তবে এখন পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা ঘোষণা আসেনি।

মামুনুল হকের কূটনৈতিক ভূমিকা

জোটের ভেতরের সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলনকে ধরে রাখতে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনিই এখন মূল সমন্বয়কের ভূমিকায় রয়েছেন। তার আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে জোটের চূড়ান্ত আকার।

মগবাজার বৈঠক ও ঘোষণার প্রস্তুতি

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১০ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে ঘোষণা আসে— ২৫০ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত, ৫০টি আসন খালি রাখা হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের জন্য।

খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মোহাম্মদ মুনতাসির আলি বলেন,“তারা না এলে পরবর্তী সময়ে ওই আসনগুলোতেও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।”

রাজনৈতিক অর্থ ও প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি ১১ দলীয় সমঝোতা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি ইসলামপন্থী রাজনীতিতে একটি বড় ঐক্য হিসেবে দেখা হবে। আর যদি ইসলামী আন্দোলন বাদ পড়ে, তাহলে এটি ভেতরের বিভাজনকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসবে এবং ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব চোখ রাত আটটার দিকে

এখন পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর রাত আটটার মঞ্চের দিকে। সেখানে ঘোষণার মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে—এটি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য, না কি ইসলামী আন্দোলন ছাড়া ১০ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা।

আর এই উত্তরই নির্ধারণ করবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থী রাজনীতির নতুন রূপরেখা।

ইসলামী আন্দোলন নেতার ফেসবুক পোস্টে ইতিবাচক ইঙ্গিত

এই অপেক্ষার মধ্যেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক নেতা ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জোটে থাকার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লেখেন—

“ইনশাআল্লাহ, মুহতারাম আমীরের সাথে আমরা আছি। মজলিসে আমেলা, মজলিসে শূরা, সারা দেশের জেলা সভাপতি-সেক্রেটারি, নির্বাচনের সকল প্রার্থীদের সাথে পরামর্শ করার পর সর্বশেষ আবার দেশবরেণ্য মুরব্বি আলেমদের সাথে পরামর্শ হয়েছে আজ। আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকও ছিল বিকেলে। দীর্ঘ আলোচনা, পর্যালোচনা আর পূঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পর মাশওয়ারা ও ইস্তেখারাসাপেক্ষে মুহতারাম আমীর যে সিদ্ধান্ত নিবেন, ইনশাআল্লাহ আমরা তার সাথেই আছি। এবার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার পালা…”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্য জোটে থাকার দিকেই ইসলামী আন্দোলনের ঝোঁককে প্রকাশ করছে। তবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেই।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222