নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আহমেদুল কবির অপু (৪২) নামে এক সন্ত্রাসীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের বশির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি স’মিল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আহমেদুল কবির অপু মরজাল ওই এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট নয়টি মামলা রয়েছে। তিনি নরসিংদী কারাগারে হামলার সময় পালিয়ে যান। হত্যার আগে লুকিয়ে বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হন অপু। এসময় তার সঙ্গে আরো চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি ছিলেন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। আজ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা বিদ্যালয় সংলগ্ন স’মিলে একটি অজ্ঞাত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে মুখমণ্ডল শনাক্ত করে নিহত ব্যক্তি আহমেদুল কবির অপু বলে নিশ্চিত করা হয়। রাতের কোনো একসময় অপুকে ওই স’মিলে নিয়ে গিয়ে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। নিহতের মাথার বাঁ পাশে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ মরদেহের পাশ থেকে একটি রক্তাক্ত ছুরি ও নিহতের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।
নিহতের বোন মিতা জানান, সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মরদেহের ছবি দেখে তিনি তার ভাইকে শনাক্ত করেন। তবে অপুর সঙ্গে কারো পূর্ববিরোধ ছিল কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, নিহতের মাথায় একাধিক কোপের আঘাত রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, অপু অভ্যুত্থানের সময় ১৯ জুলাই নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট নয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন এবং আরেকটি মামলায় তিনি পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। এ ছাড়া দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান ওসি।
এমএআর/
