নিজস্ব প্রতিবেদক :: ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে বাতিল অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে মাধবপুর উপজেলা উলামা পরিষদ নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, জুয়া, মদ, ব্যাভিচার, মাদক সেবনসহ সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং সবসময় তৎপর থাকবে উলামা পরিষদ।
শনিবার ৩০ মে শনিবার দুপুরে মাধবপুর উপজেলা উলামা পরিষদ আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সাধারণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভাপতির আলোচনায় মাওলানা শাহ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন বলেন, আলেমদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যের সামীয়ানা মিস করলে অপদস্থ হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
উলামা পরিষদ সেক্রেটারী মুফতি ওয়াজেদ আলী বলেন, আমরা কাউকে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে চাই না। দল যার যার মতো করে করবে, শুধু সংগঠনে রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না। উলামা পরিষদের যে কেউ ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতি করতে পারবে- কোনো সমস্যা নেই।
তিনি বলেন, মাধবপুরে ইসলামী ইতিহাস ডকুমেন্টারি তৈরি করার চিন্তা করছে উলামা পরিষদ। প্রত্যেক ইউনিয়নের আলেমদের সহযোগিতায় এ কাজ আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। প্রাচীন ইসলামী ইতিহাস সুরক্ষায় কাজ করবে আলেমদের এ সংগঠন।
প্রচার-প্রসারে আলেমদের সযত্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুফতি ওয়াজেদ আলী বলেন, আলেমদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও তৎপর হতে হবে।
মাধবপুরের বরগ গ্রামে মাওলানা জালাল উদ্দীন পরিচালিত একটি মসজিদ রমজানে তালা দিয়ে রেখেছিল প্রশাসন। এ বিষয়ে উলামা পরিষদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। মাওলানা জালাল উদ্দীন বলেন, এটি বিচারাধীন আছে। শিগগিরই এ সমস্যার অবসান ঘটবে ইনশাআল্লাহ।
মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঈদ পুনর্মিলনীটা যেন সুন্দর হয়। উলামা পরিষদকে সাধারণ মানুষের কাছে দাওয়াত নিয়ে যেতে হবে। পুরনোদের আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।
মাওলানা ফরীদ উদ্দীন বলেন, সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। কেন্দ্রের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। আমি অসুস্থ হতে পারি, সাধ্যানুযায়ী কাজ করতে আগ্রহী।
বাঘাসুরার মাওলানা অলিউর রহমান বলেন, গ্রামে গ্রামে হিদায়াতি মজলিস পরিচালনা করতে হবে। আমাদের ইউপিতে একটি মসজিদ আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি। শীর্ষ আলেমদের তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত করেন।
মাওলানা আবু হানিফা বলেন, আমাদের আন্দিউড়া ইউনিয়নে বাতিলের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি। ঐক্যবদ্ধ থাকার সুফল আমরা ঘরে তুলতে শুরু করেছি।
উপজেলার দায়িত্বশীলদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আব্বাস আলী, মাওলানা আব্দুল মতিন, মাওলানা হাসান জুনায়েদ, মাওলানা মোতাহার হোসাইন, মাওলানা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা সালাহউদ্দিন , মাওলানা আনোয়ার হোসেন রাজী , মাওলানা মাসউদুল কাদির, মাওলানা ইসমাইল আহমদ, হাফেজ কারী আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরীপ্রমুখ।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নিজেদের এলাকার অবস্থা তুলে ধরে আলোচনা করেন, বহড়ার মাওলানা নুরুজ্জামান ফারুকী বলেন, বুল্লার মাওলানা কুতুবুর রহমান, খড়কীর মাওলানা শফিকুল ইসলাম, বুল্লার মাওলানা এখলাসুর রহমান শামীম, বেজুড়ার মাওলানা লুতফুর রহমান, পৌরসভার মাওলানা আদনান রাফি প্রমুখ।
পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন পর্যায়ক্রমে মাওলানা মারগুবুর রহমান, মাওলানা হাসিবুল হাসান নূরী ও মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস। সভাপতিত্ব করেন, মাওলানা শাহ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন ও মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।
