মানবসেবা, সমাজকল্যাণ এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া ইমরান হুসাইন হাবিবী সম্প্রতি এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হন। পার্বত্য অঞ্চল সফরকালে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া এবং বিভিন্ন পোকামাকড়ের বিষক্রিয়াজনিত জটিলতায় তার ফুসফুসসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং এক পর্যায়ে প্রায় ৭-৮ দিন লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়।
পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময়টি ছিল অত্যন্ত সংকটময় ও উদ্বেগপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, এমনকি দেশের বাইরেও অসংখ্য মানুষ তার সুস্থতার জন্য দোয়া করেছেন, কুরআন খতম করেছেন, নফল ইবাদত করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জন্য ভালোবাসা ও সমর্থনের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
বর্তমানে মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে তিনি লাইফ সাপোর্ট থেকে কেবিনে স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এখনো কথা বলতে কষ্ট হয় এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি, তবুও চিকিৎসকদের মতে তার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইমরান হুসাইন হাবিবী গভীর আবেগ নিয়ে বলেন, “আমি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে সিজদাবনত হয়ে শুকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত, দেশবাসীর আন্তরিক দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতার কারণেই আজ আমি আপনাদের মাঝে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যে মানুষকে ধন্যবাদ দেয় না, সে আল্লাহরও শুকরিয়া আদায় করে না।’ তাই আমি দেশের প্রতিটি মানুষ, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী, সাংবাদিক, আলেম-উলামা, হাফেজ, খতিব, ইমাম, শিক্ষক, ছাত্র, ব্যবসায়ী, প্রবাসী ভাই-বোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা একটি পোস্ট, একটি স্ট্যাটাস, একটি মন্তব্য কিংবা একটি দোয়ার মাধ্যমে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন—সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের এই ভালোবাসা আমি কখনো ভুলব না।”
এদিকে তার অসুস্থতার মাঝেও People’s Improvement Society of Bangladesh (PISOB)-এর কার্যক্রম থেমে থাকেনি। বরং সংগঠনের দায়িত্বশীলদের মতে, চলতি বছর পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি পরিসরে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
পিসবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সভাপতি জানান, “আলহামদুলিল্লাহ, প্রতি বছর যে পরিমাণ কাজ হয়, এ বছর তারও দ্বিগুণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতার অসুস্থতা আমাদের মনোবল ভেঙে দিতে পারেনি; বরং আমরা এটিকে আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেছি।”
তিনি জানান, ঈদের দিন ভোরবেলায় রাস্তায় ঘুমিয়ে থাকা ছিন্নমূল, ভাসমান ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও পিসবের সম্মানিত দাতা সদস্যদের কুরবানি এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত কুরবানির পশু জবাই করে ঢাকা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে কুরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে।
এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল দাতা, শুভানুধ্যায়ী, স্বেচ্ছাসেবক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করা অসংখ্য নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। তাদের সহযোগিতা, শ্রম ও ত্যাগ ছাড়া এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না বলে উল্লেখ করা হয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইমরান হুসাইন হাবিবী বলেন, “মহান আল্লাহ তাআলা যদি আমাকে দ্রুত পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করেন, তাহলে খুব শিগগিরই দরিদ্র মানুষের সেবার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। অনেক অসহায় মানুষ শুধু সময়মতো চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার কারণে কষ্ট পান। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুদের শিক্ষা, নৈতিক বিকাশ এবং সমাজ ও দেশের জন্য আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুশিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও কল্যাণে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করুন।”
সবশেষে তিনি আবারও দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “যারা আমার জন্য দোয়া করেছেন, যারা খোঁজখবর নিয়েছেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার জন্য লিখেছেন, যারা নীরবে চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে আমার সুস্থতা চেয়েছেন—আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনাদের এই ভালোবাসা ও দোয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় সম্পদ। মহান আল্লাহ তাআলা আপনাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।”
তিনি দেশবাসীর নিকট নিজের দ্রুত ও পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।
হাআমা/
