ঐক্যের বিকল্প নেই

নাজমুল হুদা মজনু

by Fatih Work

মুসলমানের মুক্তির জন্য ঐক্যের বিকল্প নেই।

পবিত্র কুরআনুল কারিমে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। এ আহ্বান নিঃসন্দেহে মুমিনদের প্রতি। কেননা সম্প্রীতি-সংহতির মাধ্যমে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও বিজয় অনিবার্য। আজকে সারা দুনিয়ায় ইসলামবিদ্বেষীদের আস্ফালন, চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র অক্টোপাসের মতো ঘিরে ধরেছে আমাদের। আমরা ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ- বিসম্বাদে ডুবে আছি আপাদমস্তক। আমরা ছোটখাটো মতপার্থক্যের কারণে পরস্পর কাদা ছোড়াছুড়ি করছি। আফসোস, সামান্য মতভেদের জন্য পরস্পর সালামবিনিময়ে দ্বিধা বোধ করছি। আমরা ভুলে গেছি সালামবিনিময় মুসলমানের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক বিশেষ অধিকার ও সম্প্রীতির সোপান। অথচ আমরা এই সেতুবন্ধন ভেঙে ফেলছি। মনে হয় শয়তান আমাদের ভালোভাবেই পেয়ে বসেছে। হায় এ যেন আত্ম হননের উৎসব।

বিজ্ঞাপন
banner

আল্লাহর দেয়া জীবনবিধান বাস্তবায়ন করতে হলে আল্লাহর হাবিবের সুন্নাত ১০০ ভাগ আঁকড়ে ধরার বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবায়ে কেরাম যেমন জায়নামাজে অশ্রু ঝরিয়েছেন তেমনি রক্ত দিয়ে সিক্ত করেছেন তপ্ত মরুর ঊষর প্রান্তর। শুধু মিষ্টি খাওয়ার সুন্নত পালন করলেই নয়; প্রয়োজনে আমাদেরও রক্ত ঝরাতে হবে। এ জন্য কুরআনুল কারিমের কাছেই ফিরতে হবে। আল্লাহর বাণী বুকে ধারণ করা ব্যতীত পুরোপুরি মুমিন হওয়া যাবে না। সেই সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনাদর্শ অন্তরের অন্তস্তলে গেঁথে নিতে হবে। তাই এক মুসলিম ভাই আরেক মুসলিম ভাইকে বুকে আগলে নিতে হবে।

মহান রাব্বুল আলামিন কুরআন মাজিদে বলেছেন, তোমরা সবাই মিলেমিশে আল্লাহর রজ্জুকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং কখনো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর সেই নেয়ামতকে স্মরণ করো, যখন একে-অন্যের মনে ভালোবাসা সঞ্চার করেছিলে; অতঃপর অতীতের সব শত্রুতা ভুলে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেলে। অথচ তোমরা ছিলে সঙ্ঘাতের অগ্নি প্রান্তে। সেখান থেকে দয়ালু আল্লাহ তায়ালা তাঁর দয়ায় তোমাদের উদ্ধার করলেন। এভাবেই আল্লাহ তায়ালা তার নিদর্শনগুলো তোমাদের কাছে স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন যাতে করে তোমরা সঠিক পথের সন্ধান পেতে পারো। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩)

এ ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা দু’টি পদ্ধতির দিকে জোর দিয়েছেন। যার ওপর গোটা ইসলামী ব্যবস্থা নির্ভর করে। তাফসির ফি জিলালিল কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে– এ দু’টি মূলনীতি হচ্ছে ঈমান ও ভ্রাতৃত্ব। ঈমান ও ভ্রাতৃত্বের দাবি হচ্ছে আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস এবং তাকওয়া অবলম্বন। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করা ও পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাওয়া।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদার ব্যক্তিরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো ঠিক যেভাবে ভয় করা উচিত। আর মুসলমান না হয়ে তোমরা মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০২)

উল্লিখিত অমিয় বণী শুনে আল্লাহভীরু প্রতিটি মানুষের অন্তরে তাই দুনিয়ার ভীতি ঘুচে যায়। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তাকে আরো সাহসী করে তোলে। ফলে সহজেই সে লড়াই সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। ইসলামের স্বর্ণালি ইতিহাসে তাই আমরা দেখতে পাই-আল্লাহর হাবিব-এর সাহাবিরা আল্লাহর রজ্জু ধারণ করে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করেছেন।

কুরআনুল কারিমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, মুহাম্মাদের অনুসারীরা পরস্পর সহানুভূতিশীল; কিন্তু অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে বড়ই কঠোর। (সূরা আল ফাতাহ-২৯)

কুরআন-হাদিসের শিক্ষা হলো, মুসলমান মুসলমানের ভাই। তাই সে তার ভাইয়ের কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং তাকে অসহায় অবস্থায় ফেলতে পারে না। যে ব্যক্তি অপর ভাইকে সহযোগিতা করে আল্লাহ তায়ালা তাকে সাহায্য করেন। যে তার ভাইয়ের কষ্ট দূর করে দেয় আল্লাহ তার বিপদ দূর করে দেবেন। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দোষত্রুটি গোপন রাখবে আল্লাহ তায়ালা কঠিন বিচারের দিনে তার দোষ গোপন রাখবেন।

শুধু তা-ই নয়, কোনো মুসলমান যদি মুসলমান ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করে ফেরেশতারা তখন আমিন আমিন বলতে থাকেন।

অন্যত্র বলা হয়েছে, মুমিনরা পরস্পরে একটি প্রাচীরের মতো; একে-অপরের শক্তি বৃদ্ধি করে। (বুখারি-২৬৪৬)
আসুন আমরা সবাই মিলে ইসলামের শক্তিশালী দুর্গ গড়ে তুলি, মুমিনের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।

লেখক : কবি ও সাংবাদিক

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222