৩৬ নিউজ ডেস্ক: দেশে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম অত্যন্ত কম থাকায় এবারও ভারত সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের বড় ধরনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশুর চামড়া অবৈধ উপায়ে পাচার রোধে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির এই কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সীমান্ত সংলগ্ন পুরো শহর জুড়ে পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারিও ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত গলিয়ে অবৈধভাবে চামড়া পারাপার ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোরবানির পর যতদিন পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের ন্যূনতম সম্ভাবনা বা ঝুঁকি থাকবে, ততদিন পর্যন্ত বিজিবির এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে। তথ্য বলছে, সরকার চলতি বছর ঢাকাসহ দেশজুড়ে গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ালেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবে সেই নির্ধারিত দাম পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা। অনেক ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় প্রতি পিস গরুর চামড়ায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কম পাওয়া যাচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ বিক্রেতারা। অন্যদিকে বাজারে ছাগলের চামড়া কিনতেও আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন বেনাপোল স্থলবন্দর ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে চামড়ার বাজারে চরম হতাশা ও মন্দা ভাব লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বিক্রেতারা স্পষ্ট বলছেন যে, দেশের বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এবং আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারণে লোকসান এড়াতে কেউ কেউ বেশি দামের আশায় পাচারকারী চক্রের কাছে চামড়া বিক্রি করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সীমান্তে বসবাসকারী বাসিন্দারা জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গরুর চামড়ার দাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় প্রতিবছর কোরবানির মৌসুমে সীমান্ত পথে চামড়া পাচারের একটি বড় ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে এ বছর যাতে কোনোভাবেই দেশের সম্পদ সীমান্ত পার না হতে পারে, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবির জোয়ানরা।
মাঠপর্যায়ের চামড়া বিক্রেতারা অভিযোগ করে জানান, বাজারে বড় আকারের একটি গরুর চামড়া মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আর ছাগলের চামড়ার দর নেমে এসেছে মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকায়। এই পানির দরে চামড়া বিক্রি করে তারা লবণ ও শ্রমিকের খরচ তো দূরের কথা, মূল কেনা দামও মহাজনদের কাছ থেকে তুলে আনতে পারছেন না। সরকারি রেটের সঙ্গে বাস্তব বাজারদরের কোনো মিল না থাকায় বাধ্য হয়ে চরম লোকসানে কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে। বেনাপোল পোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার আঢ্য সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে বলেন, চামড়া পাচার প্রতিরোধে বিজিবির বিশেষ টহল দলের সঙ্গে সমন্বয় করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পাচার রোধে সীমান্ত শহরের প্রতিটি প্রবেশমুখ ও সড়কে পুলিশের টহল বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে।
টিএইচএ/
