‘যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে থাকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি কোনও বাঙ্কারে লুকিয়ে নেই’— বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের মুম্বাইয়ে নিযুক্ত ইরানের কনসাল জেনারেল।।
শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুম্বাইয়ে নিযুক্ত ইরানের কনসাল জেনারেল সাঈদ রেজা মোসায়েব মোতলাঘ আরও বলেন, বিদেশি (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে উসকানি দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার হুমকি থাকা সত্ত্বেও ইরান ও ভারত পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, ইরান অভ্যন্তরীণ সংকটে রয়েছে; এমন একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি বলতে চাই, একটি নির্দিষ্ট মোড় ঘোরানো তারিখ, যেটি আমার বিশ্বাস বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বা শুক্রবার পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের প্রতি নমনীয়তা ও আত্মসংযম দেখিয়েছে।’’
ইরানি এই কূটনীতিক জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার থেকে যখন ইরানের বাইরে থাকা তাদের প্রভু ও নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নির্দেশনা পেতে শুরু করে, তখন তারা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে লিপ্ত হয় এবং বড় ও ছোট শহরের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা চালায়। এর ফলে আমাদের কিছু নাগরিকের মাঝে ভীতির সঞ্চার ও তাদের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তিও ধ্বংস করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই সহিংসতায় মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৬৯০ জন সন্ত্রাসী রয়েছেন।
মোতলাঘ বলেন, ‘বিক্ষোভে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা ছিল না বললেই চলে বা থাকলেও তা খুব সামান্য। তবে ইরান সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন অথবা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া সংবাদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছিলেন।’
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পদক্ষেপ, যার মধ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠানোও রয়েছে—এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।’’
সূত্র: এনডিটিভি
এনএ/
