কিডনি রোগকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ শুরুতে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা না গেলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষতি চলতে থাকে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
অভিজ্ঞ ডায়াবেটোলজিস্ট ডা. ব্রিজমোহন অরোরা মনে করেন, সচেতন হলে কিডনি জটিলতার বড় অংশই এড়ানো সম্ভব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সাধারণ প্রস্রাব পরীক্ষা কিডনির ক্ষতির ইঙ্গিত অনেক আগেই দিতে পারে—কখনও কখনও প্রায় পাঁচ বছর আগে।
অনেকে কিডনি পরীক্ষার কথা বললে প্রথমেই রক্তের ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা মাপার কথা ভাবেন। এটি কিডনির কার্যকারিতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়া মানে অনেক সময় ক্ষতি ইতোমধ্যে বেশ এগিয়ে গেছে। সাধারণভাবে রক্তে ক্রিয়েটিনিন ১.৩-এর বেশি হলে সতর্ক হওয়া দরকার, আর দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে এটি ১.০-এর নিচে রাখাই ভালো।
এখানেই গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ইউরিন এসিআর’ বা অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন রেশিও পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় দেখা হয়, কিডনি থেকে অল্প পরিমাণ প্রোটিন বা অ্যালবুমিন বেরিয়ে যাচ্ছে কি না। কিডনি ক্ষতির একেবারে প্রাথমিক পর্যায়েই এই অ্যালবুমিন নিঃসরণ শুরু হতে পারে—যা অনেক সময় রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ার আগেই ঘটে।
স্বাভাবিকভাবে ইউরিন এসিআর মান ৩০-এর নিচে থাকা উচিত। এর বেশি হলে ধরে নেওয়া হয়, কিডনির ওপর চাপ পড়ছে এবং তা নজরে আনা জরুরি।
কিডনি রোগের বড় সমস্যা হলো দেরিতে ধরা পড়া। অনেক সময় রোগ শনাক্ত হয় তখনই, যখন ডায়ালাইসিসের মতো জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে জীবনযাপন ও চিকিৎসার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।
কারা নিয়মিত পরীক্ষা করাবেন?
- ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
- উচ্চ রক্তচাপ আছে যাদের
- পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস রয়েছে
- দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ বা স্থূলতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তি
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, উপসর্গের জন্য অপেক্ষা না করে বছরে অন্তত এক থেকে দুইবার কিডনি ফাংশন ও ইউরিন এসিআর পরীক্ষা করানো উচিত। একটি সাধারণ ইউরিন টেস্টই হতে পারে ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকি এড়ানোর প্রথম পদক্ষেপ।
এনআর/
