আফগানিস্তানের পূর্ব নঙ্গারহার প্রদেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তোর্খাম সীমান্তে রোববার (১ মার্চ) আবারও তালেবান এবং পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় এই ব্যস্ত সীমান্ত এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
তোর্খাম মূলত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রধান বাণিজ্যিক রুট হিসেবে পরিচিত, যেখানে নতুন করে লড়াই ছড়িয়ে পড়ায় দুই দেশের পণ্যবাহী ট্রাক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আমু টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তোর্খাম সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় উভয় পক্ষই ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর গুলিবর্ষণ করছে।
এই নতুন সংঘর্ষে কী পরিমাণ হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং তালেবান সরকারের পক্ষ থেকেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, শনিবার রাতভর নঙ্গারহার, পাক্তিয়া, খোস্ত এবং কান্দাহার প্রদেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতেও ভয়াবহ লড়াই চলেছে। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই সংঘাতের ধারাবাহিকতায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বিমান ও স্থল অভিযান চালানোর দাবি করছে। তালেবান ইতিমধ্যে অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় অসংখ্য আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তারা কেবল সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করছে।
উভয় পক্ষই এই লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করলেও স্বতন্ত্র কোনো সূত্র থেকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন কামান ও গোলন্দাজ বাহিনীর লড়াই থেকে শুরু করে বিমান হামলায় রূপ নিয়েছে। সীমান্তের একাধিক পয়েন্টে একযোগে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের ফলে এই সামরিক উত্তেজনা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আমু টিভি
টিএইচএ/
