পাকিস্তান ও ইরানের সাথে বাণিজ্য পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আফগানিস্তান। গত চার মাস ধরে পাকিস্তানের সাথে প্রধান বাণিজ্যিক সীমান্তগুলো বন্ধ থাকার পর এবার ইরানের চাবাহার বন্দরের ট্রানজিট সুবিধাও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে দেশটিতে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট (এসিসিআই) জানিয়েছে, করাচি ও গোয়াদর বন্দর ব্যবহারে কড়াকড়ির পর চাবাহার বন্দরকে বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেখানে শত শত পণ্যবাহী জাহাজ ও কার্গো আটকা পড়েছে। বছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বাণিজ্য হয় এই পথগুলো দিয়ে, যার বড় অংশই হলো জ্বালানি ও নির্মাণ সামগ্রী। বর্তমানে লোডিং-আনলোডিং বন্ধ থাকায় আমদানিকারকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অর্থনীতিবিদ সৈয়দ মাসুদ সতর্ক করে বলেছেন, করাচি ও গোয়াদরের পর চাবাহার বন্দরও যদি হাতছাড়া হয়, তবে সমুদ্রপথের সাথে আফগানিস্তানের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
এদিকে বাণিজ্যে স্থবিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কাবুলের স্থানীয় বাজারে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজি আটার বস্তার দাম বেড়ে ১,৫৫০ আফগানি এবং ভোজ্যতেলের দাম ১,৯০০ আফগানি ছাড়িয়েছে। চালের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কেবল খাদ্য নয়, পাকিস্তান থেকে ওষুধ আমদানি বন্ধ রাখায় স্বাস্থ্যখাতেও হাহাকার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হেরাত প্রদেশে ডায়ালাইসিসসহ জরুরি চিকিৎসার সরঞ্জামের অভাবে শত শত কিডনি রোগী মৃত্যুর প্রহর গুনছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানোর কোনো বিকল্প পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট কয়েকটি বাণিজ্য পথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে রাজনৈতিক বৈরিতা আফগানিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটে ফেলেছে। বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশটিতে মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আমু নিউজ
টিএইচএ/
