জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তরুণদের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিয়ে খুলনায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দলটির খুলনা জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারীর বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) খুলনায় এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এতে অংশ নিতে কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে সেখানে অবস্থান করছেন। তবে এই উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্যেই জেলা পর্যায়ের শীর্ষ এক নেতাকে ঘিরে ওঠা গুরুতর এই অভিযোগ দলটির ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ জানুয়ারি, যখন খুলনার এক আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম শফিকুল ইসলামের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ঘটনায় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মিরাজ নামে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। তার দাবি অনুযায়ী, তারা খুলনা জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী ফয়েজুল্লার সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং তার নির্দেশেই ওই স্থানে গিয়েছিলেন। মিরাজ নিজেকে ফয়েজুল্লার ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে প্রধান সমন্বয়কারী আগে থেকেই অবগত ছিলেন।
তবে এই অভিযোগ ওঠার পরপরই গত ১৯ জানুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টি খুলনা জেলা শাখা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দায় অস্বীকার করে। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, গ্রেফতারকৃত মিরাজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দলের কোনো স্তরের দায়িত্বশীল পদে নেই এবং একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে দলকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে মিরাজকে জেলা প্রধান সমন্বয়কারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। এছাড়া ঘটনার দিন সংশ্লিষ্ট নেতার সঙ্গে যোগাযোগের কিছু স্ক্রিনশটও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নেতার স্বচ্ছ জবাবদিহিতা দাবি করেছেন।
টিএইচএ/
