আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ নীতি লঙ্ঘন করে আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোরে কাবুল, কান্দাহার, পাক্তিয়া, পাক্তিকা ও নানগারহারসহ বেশ কিছু এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। আফগানিস্তানের (তালেবান) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানি সামরিক জান্তার এই বর্বরোচিত হামলায় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন। এই আগ্রাসনের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা চুপ করে বসে নেই; পাল্টা হামলায় পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট এলাকায় সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে আফগান বিমান বাহিনী।
ইসলামিক আমিরাতের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেসামরিক ঘরবাড়িতে বোমা বর্ষণ করেছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে এই ধরনের হামলাকে চরম বর্বরতা ও কাপুরুষোচিত কাজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নানগারহার পুলিশ কমান্ডের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মোমান্দ দারা জেলায় একটি আবাসিক বাড়িতে হামলায় এক নারী ও এক শিশু প্রাণ হারিয়েছেন।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র সিদ্দিকুল্লাহ নুসরাত জানিয়েছেন, তাদের পাল্টা হামলায় পাকিস্তানি বাহিনীর কোহাট সামরিক দুর্গ, কমান্ড অফিস, অস্ত্রাগার এবং সৈনিকদের ব্যারাক ধ্বংস হয়েছে। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের এই আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। কারজাই ইসলামাবাদকে শত্রুতা পরিহার করে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া ইসলামাবাদে নিযুক্ত সাবেক আফগান রাষ্ট্রদূত আব্দুল সালাম জাঈফ এই হামলাকে এক ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউনামা) এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
টিএইচএ/
